ইতিহাস গড়ে বিশ্বের প্রথম লক্ষ কোটি ডলারের মালিক ইলন মাস্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিলিয়নেয়ার থেকে এবার ট্রিলিয়নেয়ার বা লক্ষ কোটিপতি! ইতিহাসের পাতায় নতুন রেকর্ড গড়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন স্পেস-এক্স ও টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.০৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লক্ষ কোটি ডলারে, যা বিশ্বের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। তাঁর এই আকাশচুম্বী সম্পদের কাছে বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ ধনীরা কার্যত অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন। মাস্কের পরেই ২৯,৪০০ কোটি ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ল্যারি পেজ়। এর পর যথাক্রমে রয়েছেন সার্জে ব্রিন (২৭১০০ কোটি ডলার), জেফ বেজ়স (২৪৮০০ কোটি ডলার) এবং ল্যারি এলিসন (২৩১০০ কোটি ডলার)।
মাস্কের টাকার পাহাড়ে ঢাকা পড়ল ভারতীয় ধনকুবেরদের সাম্রাজ্য
বৈশ্বিক এই ধনকুবেরের বিপুল সম্পদের সামনে ভারতের শীর্ষ ধনীরা যেন কিছুটা ম্লান। ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, ভারতের ধনীতম ব্যক্তি মুকেশ অম্বানী ৮,৮০০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে রয়েছেন ১৬ নম্বরে। অন্যদিকে, গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ ৯,2০০ কোটি ডলার। এছাড়া দেশের অন্যতম বিত্তশালী জিন্দল পরিবারের ৩,৮০০ কোটি, মিত্তল পরিবারের ৩,৪০০ কোটি, শিব নদরের ২,৫০০ কোটি এবং কুমার মঙ্গলম বিড়লার ২,৭০০ কোটি ডলারের সম্পত্তি রয়েছে। এমনকি ভারতের সবচেয়ে দামি বাড়ি মুকেশ অম্বানীর ২০০ কোটি ডলারের ‘অ্যান্টিলা’ কিংবা টাটা গোষ্ঠীর মোট ৩০,০০০ কোটি ডলারের সামগ্রিক সম্পদ এক করলেও তা ইলন মাস্কের একক সম্পত্তির ধারেকাছে পৌঁছায় না।
১৬০টি দেশের জিডিপিকে টেক্কা, মাস্কের সম্পদ যেন একাই একটি রাষ্ট্র
ইলন মাস্কের এই অবিশ্বাস্য আর্থিক বৃদ্ধির মূল কারণ প্রযুক্তি খাতে তাঁর একচেটিয়া আধিপত্য এবং মহাকাশ গবেষণা ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে দূরদর্শী বিনিয়োগ। আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারের (আইএমএফ) ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদ বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের বার্ষিক জিডিপির চেয়ে বেশি। সুইৎজ়ারল্যান্ড কিংবা পোল্যান্ডের মতো ১০টি দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন এখন মাস্কের একার সম্পত্তির সমান। এমনকি বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি আমেরিকার জিডিপির ৩.৪ শতাংশ, চিনের ৫.৪ শতাংশ এবং জার্মানির ২১ শতাংশের সমান তাঁর সম্পদ।
মাস্কের এই বিপুল সম্পত্তি ভারতের ৪.১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশের সমান। কোনো একক ব্যক্তির হাতে একটি দেশের মোট বার্ষিক উৎপাদনের চারভাগের একভাগ সম্পদ পুঞ্জীভূত হওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরণের অকল্পনীয় সম্পদ একক নিয়ন্ত্রণে থাকার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রযুক্তির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ যেমন বাড়বে, তেমনই তা বৈশ্বিক সম্পদ বৈষম্যের বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দেবে।
