বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূলের অন্দরে মহাবিদ্রোহ! অভিষেক ও আই-প্যাককে দুষলেন অনুব্রত – এবেলা

বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূলের অন্দরে মহাবিদ্রোহ! অভিষেক ও আই-প্যাককে দুষলেন অনুব্রত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। চরম বিপর্যয়ের এই ডামাডোল পরিস্থিতির মাঝেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিলেন বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কার্যত তৃণমূলের অভ্যন্তরে চলমান বিদ্রোহকেই মান্যতা দিলেন।

আই-প্যাক ও নবীন নেতৃত্বের দিকে আঙুল

দলের বর্তমান ভরাডুবির প্রধান কারণ হিসেবে অনুব্রত মণ্ডল আই-প্যাকের মতো ভোটকুশলী সংস্থাকেই দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের জন্মলগ্নে কোনো বিশেষজ্ঞ সংস্থা ছিল না, বরং তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের ঘাম-রক্তের বিনিময়েই দল ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজনীতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণাহীন একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে নিচুতলার সংগঠনকে দুর্বল করা হয়েছে এবং তারা কেবল অর্থ আদায়ের কাজ করেছে। পাশাপাশি নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে এই প্রবীণ নেতা স্পষ্ট জানান, রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ ও নবীন কারও কাছ থেকে নির্দেশ বা ‘লেকচার’ শোনা তাঁর পক্ষে মেনে নেওয়া আসাম্ভব।

বিদ্রোহীদের সমর্থন ও সম্ভাব্য প্রভাব

দলের বর্তমান ভাঙন এবং জোড়া বিদ্রোহের আবহে বিক্ষুব্ধ সাংসদ ও বিধায়কদের প্রকাশ্যেই সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের এই বিশ্বস্ত সেনাপতি। সম্প্রতি লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন তৃণমূল সাংসদের এনডিএ-কে সমর্থন এবং বিধানসভায় বিধায়কদের একাংশের বিকল্প বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। অনুব্রতর দাবি, বিদ্রোহীরা বিজেপিতে যোগ না দিয়ে সঠিক পথেই পৃথক ফ্রন্ট গড়েছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনুব্রতর এই প্রকাশ্য অবস্থান দলের অভ্যন্তরে অভিষেক-বিরোধী বিক্ষুব্ধ শিবিরকে আরও বেশি উৎসাহিত করবে এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলের এই পরিণতির জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের একগুঁয়েমিকে দায়ী করলেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান নিঃসঙ্গ অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অনুব্রত। তাঁর মতে, দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিরাও মমতাকে নেত্রী মানেন, কিন্তু অভিষেককে নয়। গরু পাচার মামলায় দীর্ঘ সময় জেলে কাটানোর পর এবারের নির্বাচনে দলে কোনো দায়িত্ব না পাওয়ার ক্ষোভও গোপন করেননি তিনি। দলে যোগ্য সম্মান না পেলে অন্য দলে যোগ না দিয়ে রাজনীতি থেকেই নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি, যা বীরভূমসহ রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য একটি অশনিসংকেত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *