রানিহাটিতে ভরসন্ধ্যায় স্বর্ণব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে ঝাঁঝরা গুলি, সর্বস্ব খুইয়ে আতঙ্কে হাওড়ার ব্যবসায়ীরা – এবেলা

রানিহাটিতে ভরসন্ধ্যায় স্বর্ণব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে ঝাঁঝরা গুলি, সর্বস্ব খুইয়ে আতঙ্কে হাওড়ার ব্যবসায়ীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকায় ভরসন্ধ্যায় এক স্বর্ণব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য দিবালোকে পরপর গুলি চালনোর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে রানিহাটি পুরাতন বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী চন্দন কাঁড়ার যখন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর ওপর এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ী অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও, তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপার গয়না এবং নগদ টাকা লুট করে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় এলাকার আইনশৃঙ্খলার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

পরিকল্পিত রেইকি ও দুঃসাহসিক ডাকাতি

প্রাথমিক তদন্ত ও ব্যবসায়ীর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। শনিবার রাতে চন্দনবাবু যখন দোকান বন্ধ করছিলেন, তখন তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে মোট ছয়জন দুষ্কৃতী আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হয়। প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতেই দুষ্কৃতীরা ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে পরপর ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। সৌভাগ্যবশত গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে গিয়ে লাগে এবং তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপরই আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দুষ্কৃতীরা চন্দনবাবুর হাত থেকে দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। অপহৃত ব্যাগে প্রায় ৭ থেকে ৮ কেজি রুপার গয়না, ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম সোনার গয়না এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়িক মহলে আতঙ্ক ও নিরাপত্তার অভাব

রানিহাটি এলাকায় এর আগে কখনও এই ধরনের দুঃসাহসিক শুটআউটের ঘটনা ঘটেনি। ফলে এই ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বীগ্ন। প্রকাশ্য বাজারে যেভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালাল, তাতে রাতের দিকে ব্যবসা চালানো কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার জেরে স্থানীয় অর্থনীতি এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপে সাময়িক মন্দা ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তদন্তে নামা পুলিশ আধিকারিকদের অনুমান, দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই ব্যবসায়ীর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল, অর্থাৎ এলাকাটিতে রেইকি করা হয়েছিল। ঘটনার পর দুষ্কৃতীরা কোন পথে পালিয়ে গেল, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলেও, এই শুটআউট অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলার শিথিলতা এবং অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতাকেই ফের প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *