নতুন দলে মা, মমতার দেওয়া বিয়ের গয়না ও পুজোর পোশাক ফেরাচ্ছেন কাকলি-পুত্র! – এবেলা

নতুন দলে মা, মমতার দেওয়া বিয়ের গয়না ও পুজোর পোশাক ফেরাচ্ছেন কাকলি-পুত্র! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এবার খোদ দেশের সংসদীয় লোকসভাতেই চরম ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, দলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ২০ জন সাংসদই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং লোকসভায় সম্পূর্ণ আলাদা একটি ব্লক গঠন করতে চলেছেন। আর এই গোটা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন খোদ প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই চরম সংকটের আবহেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া উপহার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কাকলি-পুত্র তথা পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার।

টুইট (X) করে বৈদ্যনাথবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিয়ের সময়ে তাঁর স্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সোনার নেকলেস এবং দুর্গাপুজোয় তাঁকে দেওয়া পায়জামা-পাঞ্জাবি তিনি আজই ফেরত দিচ্ছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত বিবেকের জায়গা থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।

মমতা-কল্যাণ-সৌগতদের আইনি নোটিশ, বিস্ফোরক কাকলি-পুত্র

উপহার ফেরানোর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র এবং সোনালী গুহকে আইনজীবী পূজা শুক্লর মাধ্যমে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে ইঙ্গিত করেছিলেন যে, এক প্রবীণ সাংসদের পরিবার বারাসাতের টিকিট চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এর জবাবে আইনি নোটিশে বৈদ্যনাথবাবু সাফ জানান, তিনি কখনওই বারাসাত বা অন্য কোনও কেন্দ্রের টিকিট চাননি। ফলে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সোনালী গুহর বিরুদ্ধে ‘কুৎসা’র অভিযোগ ও মানহানির হুঁশিয়ারি

তৃণমূল নেত্রী সোনালী গুহর তোলা একটি চরম ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাকলি-পুত্র। সোনালী গুহ দাবি করেছিলেন যে, বৈদ্যনাথ, তাঁর ভাই এবং মা কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিয়মিত মদ্যপান করেন। এই বক্তব্যকে ‘চূড়ান্ত মানহানিকর ও কুৎসিত’ আখ্যা দিয়ে বৈদ্যনাথবাবু নোটিশে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে তিনি কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও মানহানির মামলা করবেন।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গাড়ি চাওয়া’ বিতর্ক থেকে শুরু করে কাকলি-পুত্রের ‘উপহার ফেরত’ ও আইনি নোটিশ— সব মিলিয়ে বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সমান্তরাল বিদ্রোহ দলটিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *