দিল্লিতে মহা-অঘটন! হাওড়ার অখ্যাত দলে মিশে গেলেন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদ, সমর্থনে মোদী সরকার – এবেলা

দিল্লিতে মহা-অঘটন! হাওড়ার অখ্যাত দলে মিশে গেলেন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদ, সমর্থনে মোদী সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: ধাঁধার থেকেও জটিল হয়ে গেল রাজধানীর রাজনীতি। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবারের রাতে এক চরম নাটকীয় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদ। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে তাঁরা সরাসরি মিশে গেলেন ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় জন্ম নেওয়া কার্যত অখ্যাত এক আঞ্চলিক দল— ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে চিঠির মাধ্যমে এই সংযুক্তিকরণের (মার্জার) কথা লিখিত ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্রোহীরা। এর সঙ্গেই তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) সরকারকেই সমর্থন করবেন তাঁরা।

বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ কাকলি ঘোষদস্তিদার স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়ে বলেন, “আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছি, যা তৃণমূলের মোট লোকসভা সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ। আমরা এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে যাচ্ছি এবং দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এনডিএ জোটের সঙ্গে সহযোগিতা করব।” বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে দল ছাড়লে দলত্যাগ বিরোধী আইন খাটবে না। ভবিষ্যতে দলের যাবতীয় আইনি স্বীকৃতি তাঁদের দিকেই থাকবে।

কালীঘাটে জরুরি বৈঠক, ক্ষুব্ধ মমতাপন্থী শিবির

এই আকস্মিক ধাক্কায় তোলপাড় বাংলার রাজনীতি। রবিবার রাতেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠক বসে, যেখানে হাজির ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাতার তলা থেকে ব্যাঙের ছাতার তলায় গেলেন কী করে? অনেকে এমন ছোটখাটো দল তৈরি করে রাখেন, সেখানে ওঁরা কৌশলগত আশ্রয় নিলেন।” অন্যদিকে, সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং সাগরিকা ঘোষ স্পিকারকে চিঠি দিয়ে এই ব্লকের স্বীকৃতি বাতিলের দাবি তুলেছেন এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

নেপথ্যে শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি?

বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব সরাসরি তৃণমূলের দলবদলুদের দলে নিতে আপত্তি তোলায়, এই নতুন কৌশলের আমদানি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানা গেছে, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকের মাঝেই ফোনে বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের কথা বলানো হয়। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি পথ মেনেই করা হচ্ছে, তাই কারও সাংসদ পদ খারিজের ঝুঁকি নেই। তবে কপিল সিবাল থেকে শুরু করে লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল পিডিটি আচার্যের মতো সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এই সংযুক্তিকরণের আইনি বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন। সব মিলিয়ে, ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘বিদ্রোহী’দের এই লড়াইয়ে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *