শুধু বয়স্কদেরই হয় প্রস্টেট ক্যান্সার? পুরুষদের অজান্তেই শরীরে দানা বাঁধছে যে ৬টি মারাত্মক ভুল ধারণা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুরুষদের স্বাস্থ্যের এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে আজও সমাজ খোলাখুলি আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করে। প্রস্টেট ক্যান্সার তার মধ্যে অন্যতম। ভারতে পুরুষদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার তালিকায় এটি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার পুরুষ এই মারণ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এই গ্রাফ প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক স্তরে রোগ ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, কিন্তু এই রোগ নিয়ে প্রচলিত ৬টি মারাত্মক ভুল ধারণাই যত বিপত্তি ডেকে আনছে।
১. কোনও উপসর্গ নেই মানেই কি শরীর সুস্থ?
অনেকেরই ধারণা, প্রস্রাবে সমস্যা বা তলপেটে ব্যথা না হলে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু বাস্তবে, প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও লক্ষণই প্রকাশ পায় না। যখন প্রস্রাবে রক্ত বা তীব্র ব্যথা শুরু হয়, ততক্ষণে রোগ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো জরুরি।
২. এই রোগ কি শুধু প্রবীণদেরই হয়?
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো এটি কেবল বয়স্কদের রোগ। বয়স বাড়লে ঝুঁকি বাড়লেও, বর্তমানে ৪০ বা ৫০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যেও এই ক্যান্সার দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারে যদি কারও প্রস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তবে কম বয়সেই সতর্ক হওয়া উচিত।
৩. PSA লেভেল বেশি মানেই কি ক্যান্সার?
প্রস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করতে রক্তে PSA (Prostate-Specific Antigen) পরীক্ষা করা হয়। তবে PSA মাত্রা বেশি হলেই ক্যান্সার হয়েছে—এমনটা ভাবা ভুল। প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া বা কোনও সাধারণ সংক্রমণের কারণেও এটি বাড়তে পারে। নিশ্চিত হতে চিকিৎসকরা আরও অন্য পরীক্ষা করে থাকেন।
৪. ক্যান্সার ধরা পড়লেই কি দ্রুত চিকিৎসা বা অপারেশন জরুরি?
সব ক্ষেত্রে তা নয়। কিছু প্রস্টেট ক্যান্সার অত্যন্ত ধীর গতিতে বাড়ে, যা শরীরে সহজে ক্ষতি করে না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন বা থেরাপি না করে ‘অ্যাকটিভ সার্ভেইলেন্স’ বা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখেন। প্রয়োজন বুঝলে তবেই চিকিৎসা শুরু হয়।
৫. চিকিৎসা করালে কি স্বাভাবিক জীবন নষ্ট হয়ে যায়?
অনেকেই যৌনক্ষমতা হারানো বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার ভয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোবোটিক সার্জারি ও উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে এই সমস্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে।
৬. প্রস্টেট ক্যান্সার মানেই কি জীবনের শেষ?
একেবারেই নয়। প্রথম দিকে ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীরা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন। এমনকি রোগটি ছড়িয়ে পড়লেও আধুনিক চিকিৎসার সাহায্যে তা নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা সম্ভব। তাই ভয় না পেয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
