ধস-বৃষ্টিতে তছনছ পাহাড়, বন্ধ টয়ট্রেন! পর্যটকদের জন্য চালু জরুরি হেল্পলাইন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শিলিগুড়ি: রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে রীতিমতো বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। প্রবল বর্ষণ ও বড়সড় ধসের জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং এবং মিরিক যাওয়ার প্রধান সড়কগুলি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
পর্যটকদের জন্য জরুরি কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন:
দুর্যোগের কবলে পড়া পর্যটকদের সাহায্যে ইতিমধ্যেই বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে রাজ্য পর্যটন দপ্তর। চালু করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন নম্বর— ১৮০০২১২১৬৫৫ এবং ০৩৫৩২৫১৩৯৮৬। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া এই মুহূর্তে পাহাড়ে সড়কপথে যাতায়াত এড়িয়ে চলার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভাসল সেতু, বাতিল ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন:
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস সত্যি করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই পাহাড় ও সমতলে প্রায় ২০০ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর জেরে বালাসন নদীর জলস্তর ফুলেফেঁপে ওঠে এবং জলের তীব্র তোড়ে কার্শিয়াংয়ের দুধিয়ায় অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে যায়। এছাড়া কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বিরাট অংশ আচমকা ধসে পড়েছে। এই দুর্যোগের কারণে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের সমস্ত টয় ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই ফের পরিষেবা চালু হবে।
আজ ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা:
আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢোকার কারণেই এই বিধ্বংসী বর্ষণ শুরু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) উত্তরের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করা হয়েছে।
রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রীকেও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। পর্যটকদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিনীত অনুরোধ, “আপনারা যে যেখানে আছেন, সুরক্ষিতভাবে সেখানেই থাকুন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সব নির্দেশ মেনে চলুন।” সিকিম ও ভুটান পাহাড়ের আকাশে এখনও কালো মেঘ ঘনিয়ে থাকায় নতুন করে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় প্রহর গুনছে গোটা উত্তরবঙ্গ।
