বন্দুক ঠেকিয়ে জমি দখল, দাবি ১০ লক্ষ টাকা! মারাত্মক অভিযোগে ফাঁসলেন প্রাক্তন কাউন্সিলার তারক সিং – এবেলা

বন্দুক ঠেকিয়ে জমি দখল, দাবি ১০ লক্ষ টাকা! মারাত্মক অভিযোগে ফাঁসলেন প্রাক্তন কাউন্সিলার তারক সিং – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: জমি দখল, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজি! এবার এমনই চাঞ্চল্যকর ও মারাত্মক অভিযোগে কাঠগড়ায় উঠলেন বেহালার প্রাক্তন হেভিওয়েট কাউন্সিলার তারক সিং এবং তাঁর ছেলে অমিত সিং। বৃহস্পতিবার রাতে এক স্থানীয় বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে লালবাজার।

কী কী অভিযোগ উঠেছে তারক সিংয়ের বিরুদ্ধে?

পুলিশ সূত্রে খবর, বেহালার মিত্র ব্রিক ফিল্ড রোড এলাকার একটি জমিকে কেন্দ্র করে এই বিবাদের সূত্রপাত। অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী:

  • তাঁর মালিকানাধীন একটি জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তারক সিং ও তাঁর ছেলে অমিত।
  • প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযোগকারীকে চড়-ঘুষি ও লাথি মারা হয়।
  • আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তারকের বিরুদ্ধে।
  • নিজের জমি ফেরত পেতে ১০ লক্ষ টাকা ‘তোলা’ বা কাটমানি দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যেই জমিটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নীরবতা:

কলকাতা পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার আগে টানা ২০ বছর কাউন্সিলার ছিলেন তারক সিং। সামলেছেন নিকাশি ও জল সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব। তবে, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি মেয়র পারিষদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে বারবার ফোন বা মেসেজ করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

ফাঁসছেন আরও এক নেতা সুশান্ত ঘোষ:

অন্যদিকে, তোলাবাজির মামলায় ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সুশান্ত ঘোষকে পুরী থেকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় আনা হয়েছে। রুবি এলাকায় হকারদের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছিল। লালবাজার সূত্রে খবর, সুশান্তর বিরুদ্ধে থানায় এখন নতুন করে আরও একাধিক অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করেছে, ফলে আগামী দিনে তাঁর আইনি গেরো আরও শক্ত হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *