সুইৎজ্যারল্যান্ডের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কাটল জট, ৫ বড় প্রাপ্তি নিয়ে সমঝোতার পথে আমেরিকা ও ইরান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে সুইৎজ্যারল্যান্ডে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যকার প্রথম দফার ঐতিহাসিক শান্তিবৈঠক সমাপ্ত হয়েছে। সোমবার সকালে এই বৈঠকের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কাতারের বিদেশ মন্ত্রক কর্তৃক প্রকাশিত এই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উভয়পক্ষই আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে হওয়া এই আলোচনাকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
সঙ্কট নিরসন ও ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি
কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতি এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম দফার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে মূলত পাঁচটি বড় সিদ্ধান্ত ও প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। প্রথমত, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার অধীনে চলতি সপ্তাহজুড়েই সুইস রিসোর্টে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত আলোচনা চলবে। দ্বিতীয়ত, লেবাননে চলমান সামরিক সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে একটি বহুপাক্ষিক ‘সংঘাত-নিরসন সেল’ বা ডিএস্কেলেশন সেল গঠন করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের বিশেষ চ্যানেল চালু করা হচ্ছে, যা আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চতুর্থত, ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা তেল ও পেট্রোরসায়ন পণ্যের ওপর মার্কিন অবরোধে বড় ছাড় এবং বিদেশে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় তহবিল মুক্ত করার নিশ্চয়তা পেয়েছে। পঞ্চমত, পারমাণবিক কার্যক্রম ও অবশিষ্ট জটিল বিষয়গুলো সমাধানের জন্য দুই পক্ষই কারিগরি স্তরে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
উত্তেজনার কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
এই বৈঠকের আবহ শুরু থেকেই বেশ উত্তপ্ত ছিল। আলোচনার সূচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চরম জট তৈরি হয়। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, লেবানন ইস্যুতে ইরান তাদের সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে দেশটিতে পুনরায় মার্কিন হামলা চালানো হবে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ইরানি প্রতিনিধিদল ক্ষুব্ধ হয়ে করমর্দন ও ফটোসেশন বর্জন করে বৈঠক থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করে। তবে কাতার ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বলিষ্ঠ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় সেই জটিলতা কেটে যায় এবং আলোচনা পুনরায় শুরু হয়।
এই আলোচনার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনেকটাই নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে, লেবাননে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
