রাজ্য বাজেটের পর নীরব মমতা, বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় সরব ঋতব্রত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের পর বঙ্গ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হল। প্রথা অনুযায়ী বাজেট পেশের পর প্রধান বিরোধী দলের তরফ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়া আসার কথা থাকলেও, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পন্থী কোনও নেতাই দীর্ঘক্ষণ এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। বরং বিধানসভায় বাজেটের প্রথম সমালোচনা করে প্রধান বিরোধীর জায়গা নিলেন ‘আসল তৃণমূল’-এর দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার নীরবতার কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী ৬৪ জন বিধায়ক একজোট হয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করায় বিধানসভায় রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনও রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপ করতে চাইছেন না তিনি। তাই দলের অবশিষ্ট নেতাদের অন্ধ বিরোধিতার বদলে বাজেট খতিয়ে দেখে মন্তব্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাজেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে তৃণমূল নেত্রীর এই কৌশলগত নীরবতা এবং বিরোধী পরিসরে তাঁর অনুপস্থিতি বঙ্গ রাজনীতিতে তাঁর ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।
বাজেট নিয়ে ‘আসল তৃণমূল’-এর মিশ্র প্রতিক্রিয়া
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। অন্ধ বিরোধিতার পথে না হেঁটে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধি এবং চা বাগানের জন্য নেওয়া সরকারের সিদ্ধান্তগুলিকে স্বাগত জানিয়েছেন ঋতব্রত। তবে বাজেটের বেশ কিছু দিক নিয়ে তাঁরা কড়া সমালোচনাও করেছেন। ‘আসল তৃণমূল’-এর মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ আগের বারের ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা পিছিয়ে পড়া শ্রেণির প্রতি সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।
