স্বাস্থ্যখাতে কল্পতরু শুভেন্দু সরকার! ৪ নয়া মেডিক্যাল কলেজ, রোগীদের খাবারে বরাদ্দ একলাফে দ্বিগুণ – এবেলা

স্বাস্থ্যখাতে কল্পতরু শুভেন্দু সরকার! ৪ নয়া মেডিক্যাল কলেজ, রোগীদের খাবারে বরাদ্দ একলাফে দ্বিগুণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেট পেশ করল বিজেপি সরকার। আর এই বাজেটে স্বাস্থ্যক্ষেত্রকে ঢেলে সাজাতে একগুচ্ছ বড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আয়ুষ্মান ভারত থেকে শুরু করে নতুন মেডিক্যাল কলেজ— স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে কার্যত কল্পতরু রাজ্য সরকার।

রোগীদের খাবারে বরাদ্দ দ্বিগুণ: সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ‘ফুল রাইস ডায়েট’-এর (Full Rice Diet) বরাদ্দ একলাফে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে জনপ্রতি এই বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫৬.৬৪ টাকা, এ বার থেকে তা বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে।

এদিন বাজেট প্রস্তাবের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “হাসপাতালে ৫৬ টাকায় তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো। পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম, ডাক্তাররাই জানালেন দুপুরেও কুমড়ো, সন্ধেবেলায়ও কুমড়ো দেওয়া হয়। আমি জানতে চাইলাম, কত টাকা হলে রোগীরা ঠিকমতো খাবার পাবেন? তাঁরা বললেন ১০৪ টাকা হলে মোটামুটি তিন বেলা হয়ে যাবে। আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করে তা ১১০ টাকা করে দিয়েছি, যাতে রোগীরা একটু ভালো খাবার পান।”

রাজ্য বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে মেগা ঘোষণাসমূহ:

  • ৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ: আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে। পাশাপাশি, ১৩টি রাজ্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ৬৫০টি এমবিবিএস (MBBS) এবং ৪৫০টিরও বেশি পিজি (PG) আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
  • উত্তরবঙ্গে নতুন AIIMS: উত্তরবঙ্গে একটি নতুন এইমস (AIIMS) এবং একটি উন্নতমানের ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
  • সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল: সুন্দরবন, পুরুলিয়া এবং দার্জিলিংয়ে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হবে। এছাড়া, সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে সরাসরি মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করা হবে।
  • আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প: এই মেগা প্রকল্পের জন্য বাজেটে ৩,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আশা (ASHA) কর্মী, আইসিডিএস (ICDS) কর্মী এবং ৭০ ঊর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক-সহ রাজ্যের প্রায় ৭ কোটি মানুষ এর আওতায় আসবেন। যাঁরা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।
  • সুন্দরবনে বিশেষ পরিষেবা: সুন্দরবনের দুর্গম এলাকার জন্য মোটরবোট অ্যাম্বুল্যান্স ও দ্বীপভিত্তিক প্রসূতি কেন্দ্র চালু করা হবে।
  • চিকিৎসা পর্যটন (Medical Tourism): আন্তর্জাতিক স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে বেসরকারি সেক্টরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৫টি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব তৈরি হবে। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়তে আমন্ত্রণ জানানো হবে, যেখানে তারা সরকারকে অন্তত ৫০% শয্যা বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে প্রদান করবে।
  • হাসপাতালের আধুনিকীকরণ: হরিপাল, বামনগোলা, ফরাক্কা, দিঘা, ঝালদা এবং মানবাজারের বর্তমান হাসপাতালগুলিকে ঢেলে সাজানো হবে। প্রতিটি জেলা ও মহকুমা হাসপাতালে এমআরআইটি (MRIT) স্টোর তৈরি করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *