পাথর খাদান ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হাজার কোটির দুর্নীতি, বিধানসভায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু – এবেলা

পাথর খাদান ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হাজার কোটির দুর্নীতি, বিধানসভায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতায় সবথেকে বড় বিস্ফোরণটি ঘটে বীরভূমের পাথর খাদান কেলেঙ্কারি এবং তৃণমূলের ‘যুবরাজ’-এর প্রসঙ্গ ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বীরভূমের খাদান থেকে বেআইনিভাবে পাথর পাচার করে বছরে প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা লুঠ করা হয়েছে। সেই বিপুল অঙ্কের টাকা ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ হয়ে সরাসরি পৌঁছে গিয়েছে দুবাইয়ে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, আগের জমানায় যে খাদান থেকে বছরে মাত্র ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তা ৮৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল রাজস্ব ফাঁকির হিসাবই প্রমাণ করে কীভাবে রাজ্যকে বঞ্চিত করে হাজার হাজার কোটি টাকা বেহাত হয়েছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও আই-প্যাক দুর্নীতিতে বিপুল লুঠ

পাথর খাদানের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প ও দফতরেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা মিলেছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর ৫৪০০ কোটি টাকা লুঠ করা হতো। এছাড়া জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক ঠিকাদারের অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা হস্তান্তরের তথ্যও পেশ করা হয়। অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের মদতেই সাধারণ মানুষের করের টাকার এই অবাধ লুঠ চলেছে।

কঠোর আইনের হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

সরকারি কোষাগার থেকে এই বিপুল অর্থ লুঠের প্রধান কারণ হিসেবে প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতাদের অশুভ আঁতাতকেই দায়ী করা হচ্ছে। এর জেরে একদিকে যেমন রাজ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের করের টাকার চরম অপচয় ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং প্রয়োজনে দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে টাকা উদ্ধার করতে নতুন আইন আনবে সরকার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের প্রতি বিধানসভাতেই সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলার পাশাপাশি, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের দিকে কুণাল ঘোষের এই ইঙ্গিতপূর্ণ আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে, যা আগামী দিনে দুর্নীতিগ্রস্তদের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক জোড়া চাপ তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *