চাকরি দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার এড়াতে হাই কোর্টে মানস ভুঁইঞা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবার আইনি গেরোয় প্রাক্তন সেচ মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা। প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের নোটিস পাওয়ার পর গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। মেদিনীপুর জেলা আদালতে তাঁর আগাম জামিনের শুনানি স্থগিত হয়ে যাওয়ার পরই উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।
টাকার বিনিময়ে চাকরি এবং আকস্মিক বরখাস্ত
সবং বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা বিকাশ কুমার টুংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এই বিতর্কের সূত্রপাত। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেতা শেখ আবু কালাম বক্স ও ভোলানাথদের মাধ্যমে এবং তৎকালীন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইঞার মধ্যস্থতায় তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর জন্য ৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয় বলে অভিযোগ। গত ১ মার্চ ‘সিআইএসবি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর অধীনে সেচ বাংলোয় কাজে যোগ দেন বিকাশবাবুর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুং। কিন্তু নিয়মিত কাজ করা সত্ত্বেও মাত্র দু’মাসের মাথায় গত ৬ মে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশিকা পাঠিয়ে তাঁর চাকরি বাতিল করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই সবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই যুবক এবং পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে।
প্রবীণ নেতার দাবি এবং সম্ভাব্য প্রভাব
পুলিশের নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানস ভুঁইঞা দাবি করে আসছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ৫৬ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কথা তুলে ধরে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে রাজ্যে চাকরি সংক্রান্ত নানাবিধ বিতর্কের আবহে একজন প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন সুনির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাটি আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে স্থানীয় স্তরে বিরোধী শিবিরকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার সুযোগ করে দিতে পারে এবং জনমানসে জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করতে পারে। উচ্চ আদালত তাঁকে আইনি রক্ষাকবচ দেয় কি না, আপাতত সেদিকেই নজর সব মহলের।
