পাতে ডিম চাই, বাজেটে ‘উপযুক্ত’ কারা? বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকায় সরব কুণাল – এবেলা

পাতে ডিম চাই, বাজেটে ‘উপযুক্ত’ কারা? বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকায় সরব কুণাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: বিধানসভা গঠনের প্রথম দিনেই তৃণমূল স্পষ্ট করে দিয়েছিল, তারা গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন করবে। বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবে রূপ দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নতুন সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি মিড ডে মিল, বাজেট প্রকল্প এবং রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক যৌক্তিক প্রশ্ন ও প্রস্তাব তুলে ধরলেন তিনি।

মিড ডে মিলে ডিমের দাবি

কলকাতার সরকারি স্কুলে মিড ডে মিল বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে, ফলে পড়ুয়াদের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়ছে ডিম। এই বিষয়টির পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে বিধানসভায় কুণাল ঘোষ বলেন, ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের কাছে খুব প্রিয় একটি খাবার। নিরামিষ খাবারে সমপরিমাণ পুষ্টিগুণ পাওয়া যাবে কি না, সেই বিতর্কের চেয়েও ছোটদের খেতে চাওয়ার ইচ্ছাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। জোর করে কারও খাদ্যাভ্যাস বদলানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাজেটে ‘উপযুক্ত’র সংজ্ঞা কী?

রাজ্যের সদ্য পেশ হওয়া বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘উপযুক্ত’ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর কাছে এই ‘উপযুক্ত’ শব্দেরই স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান কুণাল। শাসকদলের বেঞ্চ থেকে এই সময় কটাক্ষ উড়ে এলে স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় তিনি পাল্টা মনে করিয়ে দেন, বিজেপি-শাসিত মহারাষ্ট্রে কীভাবে হাজার হাজার পুরুষ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন।

পূর্বতন সরকারের প্রশংসা ও রাজ্যের আয় বৃদ্ধি

নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন কুণাল। তবে বাজেটে দিল্লির বিভিন্ন প্রকল্পের উল্লেখ প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের নিজস্ব আয় ও রাজস্ব বৃদ্ধির রূপরেখা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরলে ভালো হতো। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বহু জনমুখী প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ পেয়েছেন, তাই আগের সরকারের সব কাজই খারাপ—এমন ঢালাও মন্তব্য করা অনুচিত।

বিধানসভায় কুণাল ঘোষের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবি:

  • রানি শিরোমণির স্মৃতি সংরক্ষণ: রাজ্য পুলিশে মাতঙ্গিনী হাজরা ও রানি শিরোমণির নামে মহিলা ব্যাটালিয়ন গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি। সেই সঙ্গে রানি শিরোমণির স্মৃতি সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে করণগড় এলাকার উন্নয়নের দাবি তোলেন।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো: ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের টাকি বয়েজ স্কুল সংলগ্ন মাঠে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং কলকাতা হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও আয়ুর্বেদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব দেন।
  • সংখ্যালঘু উন্নয়ন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বাজেটে আরও কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে মত প্রকাশ করেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
  • পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: সার্কুলার ক্যানালের সংস্কার এবং ই এম বাইপাস সংলগ্ন জলাজমি ও কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান। এছাড়া লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সংরক্ষণেরও আবেদন করেন।

পরিশেষে বাজেটের সামগ্রিক মূল্যায়নে তিনি জানান, নতুন সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও, প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন ও আর্থিক উৎস সম্পর্কে আগামী দিনে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *