রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখার মাঝে মেদহীন স্বস্তির খোঁজে পুষ্টিকর খাবারের তালিকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মরশুমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে রাত জাগার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত খেলা দেখার সময় পেটে খিদে বা ‘লেট নাইট ক্রেভিংস’ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে মাঝরাতে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষের মনেই মেদ জমে যাওয়া কিংবা অ্যাসিডিটির ভয় কাজ করে। পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে যেকোনো খাবার খেলেই যে শরীরের ওজন বাড়বে বা হজমের সমস্যা হবে, বিষয়টি তেমন নয়। বরং মাঝরাতে কী ধরনের খাবার বেছে নেওয়া হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে সুস্বাস্থ্য।
মেদহীন ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প
গভীর রাতের তীব্র খিদে মেটাতে এবং একই সঙ্গে শরীরের ক্যালোরির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছয়টি পুষ্টিকর খাবার বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমত, এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ গরম দুধ প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি গভীর ঘুমে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, দই-ওটসের সংমিশ্রণ খুব সহজেই পেট ভরাতে সক্ষম। তৃতীয়ত, কাঠবাদাম, কাজু বা আখরোটের মতো এক মুঠো মিশ্র বাদাম শরীরকে দেয় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবার। চতুর্থত, আপেলের টুকরোর সঙ্গে সামান্য পিনাট বাটার খেলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা দূর হয়। পঞ্চমত, ফাইবার সমৃদ্ধ হোল-গ্রেন টোস্ট অল্পতেই দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ষষ্ঠত, প্রোটিনের সবচেয়ে সহজ উৎস হিসেবে একটি সেদ্ধ ডিম অতিরিক্ত ক্যালোরি ছাড়াই দ্রুত খিদে মেটাতে দারুণ কার্যকর।
অ্যাসিডিটির কারণ ও জীবনযাত্রায় প্রভাব
মাঝরাতে ভুল খাদ্য নির্বাচন শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডুবো তেলে ভাজা স্ন্যাক্স, পিৎজা, বার্গার, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, চিপস এবং অতিরিক্ত মশলাদার খাবার পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করে। এছাড়া কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম বা চিনিযুক্ত পানীয় শরীরে দ্রুত মেদ জমায় এবং কড়া চা বা কফি রাতের স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এই সমস্ত খাবার অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে অনিদ্রা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুস্থ থাকতে চিকিৎসকেরা ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের মূল খাবার শেষ করার এবং খাওয়ার পরপরই বিছানায় না যাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি গভীর রাতে হালকা স্ন্যাক্স যাই খাওয়া হোক না কেন, শরীর আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি।
