জোড়াফুল কার? দলের অধিকার নিয়ে কমিশনে মমতা ও বিদ্রোহী শিবির, মহারাষ্ট্রের ছায়া তৃণমূলে! – এবেলা

জোড়াফুল কার? দলের অধিকার নিয়ে কমিশনে মমতা ও বিদ্রোহী শিবির, মহারাষ্ট্রের ছায়া তৃণমূলে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) ক্ষমতার লড়াই এবার চরম আকার ধারণ করেছে। দলের রাশ, নাম এবং প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’-এর অধিকার পেতে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত গোষ্ঠী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সমর্থিত বিদ্রোহী শিবির। উভয় পক্ষই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করে সংঘাত আরও তীব্র করে তুলেছে।

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি ও পদক্ষেপ:

  • চেয়ারপার্সন বদল: সোমবার নিউটাউনের একটি হোটেলে বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরানোর প্রস্তাব পাশ করে বিদ্রোহী শিবির। হাওড়া সেন্ট্রালের বিধায়ক অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
  • সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি: বিদ্রোহীদের দাবি, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই তাঁদের দিকে রয়েছেন। ফলে দলের নাম ও প্রতীকের ওপর তাঁদেরই ন্যায্য অধিকার রয়েছে।
  • কমিশনে দরবার: মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে নিজেদের অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং প্রতীকের অধিকার দেওয়ার আবেদন জানান তাঁরা।
  • তহবিল ফ্রিজ: বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

মমতা শিবিরের পালটা চাল:

  • পাল্টা তালিকা জমা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও কমিশনের কাছে পৃথক তালিকা জমা দিয়েছে। এই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • কড়া পদক্ষেপ ও বহিষ্কার: দলের অনুশাসন ভাঙার দায়ে ইতিমধ্যেই অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ, জাভেদ খানের মতো একাধিক প্রথম সারির বিদ্রোহী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল।
  • মহুয়ার কটাক্ষ: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বিদ্রোহীদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, দলীয় সংবিধান অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আজীবন তৃণমূলের চেয়ারপার্সন থাকবেন।

মহারাষ্ট্র মডেলের পুনরাবৃত্তি?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের এই বর্তমান পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপি-র (NCP) অভ্যন্তরীণ সংঘাতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। সেখানেও দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছিল।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দলের প্রতীক কার হাতে থাকবে, তা হয়তো নির্বাচন কমিশন বিধায়ক সংখ্যার ভিত্তিতে ঠিক করবে। কিন্তু দলের বিপুল সম্পদ ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে এই সংঘাত দ্রুত মেটার কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং জল অনেক দূর পর্যন্ত, এমনকি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তও গড়াতে পারে। পাশাপাশি, বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধেও ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। সব মিলিয়ে, বঙ্গ রাজনীতিতে এখন চূড়ান্ত নাটকীয়তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *