ফের ‘দিল্লি চলো’ কৃষকদের! ভারত-মার্কিন চুক্তির প্রতিবাদে রাস্তায় অন্নদাতারা, আবার কি অবরুদ্ধ হবে রাজধানী? – এবেলা

ফের ‘দিল্লি চলো’ কৃষকদের! ভারত-মার্কিন চুক্তির প্রতিবাদে রাস্তায় অন্নদাতারা, আবার কি অবরুদ্ধ হবে রাজধানী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২০-২১ সালের ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের স্মৃতি উসকে ফের একবার রাজপথে নামলেন দেশের অন্নদাতারা। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-র ব্যানারে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শত শত কৃষক ফের দিল্লি অভিমুখে রওনা দিয়েছেন। এবার তাঁদের মূল নিশানায় রয়েছে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ (FTA)।

খবরের মূল হাইলাইটস:

  • আন্দোলনের কারণ: ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার দাবি।
  • দিল্লি সীমানায় কড়াকড়ি: কৃষকদের আটকাতে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা, জারি ১৬৩ নং ধারা (পূর্বের ১৪৪ ধারা)।
  • সরকারের পদক্ষেপ: আটক কৃষক নেতাদের মুক্তি দিতে এবং কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে রাজি হয়েছে হরিয়ানা সরকার।

কেন এই নয়া চুক্তি নিয়ে কৃষকদের এত ভয়? কৃষকদের আশঙ্কা, ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় ধস নামবে। বিদেশি কৃষিজাত পণ্য বিনাশুল্কে ভারতের বাজারে প্রবেশ করলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং তাঁদের ব্যবসা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় অবিলম্বে চুক্তি বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।

সংঘাত নয়, চাইছেন আলোচনা তবে এবার কৃষকরা সংঘাতের পথে হাঁটতে নারাজ। কৃষক নেতা সরওয়ান সিং পান্ধের স্পষ্ট জানিয়েছেন, কৃষকরা দিল্লি যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও, তাঁরা কোনোভাবেই পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙবেন না। সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করতে চান। যাওয়ার অনুমতি মিলবে কি না, তা সম্পূর্ণ প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তাঁরা।

কী বলছে কেন্দ্র? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তিতে কৃষকদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। চুক্তির ফলে দেশের কৃষকদের কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য, তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ২০২০-২১ সালে প্রায় ১৮ মাস ধরে দিল্লির সীমানায় রোদ-জল উপেক্ষা করে ধর্নায় বসেছিলেন কৃষকরা। সেবার টানা আন্দোলনের চাপে পড়ে কেন্দ্র আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। এবারও কি সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? সেদিকেই নজর গোটা দেশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *