‘টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে মারধর!’ সংসদ মার্চে পা ভাঙল পুলিশ অফিসারের, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

‘টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে মারধর!’ সংসদ মার্চে পা ভাঙল পুলিশ অফিসারের, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিট (NEET) পেপার লিক কাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার দিল্লিতে ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সংসদ মার্চ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই হিংসাত্মক সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন দিল্লি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শ্রীনিবাস শর্মা। তাঁর পা ভেঙে গিয়েছে এবং হাতেও মারাত্মক চোট লেগেছে। হাসপাতালের বিছানা থেকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ফাঁস করেছেন সেদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

কী ঘটেছিল সোমবার?

  • রাস্তা অবরোধ ও পুলিশের আর্জি: ডিসিপি (নতুন দিল্লি) স্কোয়াডে কর্মরত শ্রীনিবাস জানান, চন্দ্রশেখরের নেতৃত্বে প্রায় ৮-১০ হাজার সমর্থক জয় সিং রোড ও সংসদ মার্গ অবরোধ করেছিল। সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু তারা শোনেনি।
  • হামলার শিকার পুলিশ অফিসার: পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে ভিড়ের মাঝে আটকে পড়েন শ্রীনিবাস শর্মা। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে।
  • ‘পুলিশ ধরো আর মারো’: আহত সাব-ইন্সপেক্টরের দাবি, ওই ভিড়ে সাধারণ ছাত্রের চেয়ে সমাজবিরোধীদের সংখ্যাই বেশি ছিল। তারা ‘পুলিশ ধরো আর মারো’ স্লোগান তুলে চরম হিংসাত্মক হয়ে ওঠে।

‘হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত!’

তদন্তে অত্যন্ত বিস্ফোরক দাবি করেছেন শ্রীনিবাস শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, পুরো হামলাটি ছক কষেই করা হয়েছিল।

  • বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিজেদের মধ্যে নির্দিষ্ট ‘কোড ওয়ার্ড’-এ কথা বলছিল।
  • সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে তার পাথরগুলো পুলিশের ওপর হামলার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
  • আন্দোলনকারীদের কাছে আগে থেকেই নানা ধরনের হাতিয়ার মজুত ছিল বলে দাবি পুলিশের।

বাধ্য হয়েই লাঠিচার্জ

আহত পুলিশ অফিসারের দাবি, প্রথম থেকে পুলিশ চরম সংযম দেখিয়েছিল। কোনও উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিন্তু প্যাটেল চকের কাছে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে এবং ১০ হাজারের বেশি উন্মত্ত জনতা চড়াও হলে বাধ্য হয়েই লাঠিচার্জ করতে হয়। পরিস্থিতি সামলাতে ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল।

প্রেক্ষাপট: যন্তরমন্তরে প্রায় এক মাস ধরে নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে অবস্থান করার পর সোমবার সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিল CJP। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা থেকেই ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *