নিট আন্দোলনের আড়ালে বিদেশি শক্তির হাত? ধর্মতলার হিংসা ও সাংবাদিক নিগ্রহ নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত শুক্রবার নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় সংগঠিত মিছিলে বিশৃঙ্খলা তৈরির পিছনে বিদেশি শক্তির মদত থাকতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তদন্তকারীরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ার শহিদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান চলাকালীন জানান তিনি।
তবে মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, শুক্রবারের মিছিলে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীরা কোনোভাবেই যুক্ত নন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ওটা বামেদের মিছিল ছিল না। স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির মিছিল ছিল। পরে বামেরা সেখানে যুক্ত হয়। নিট আন্দোলনের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা এই ঘটনায় কোনোভাবেই যুক্ত নন। আমরা ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখেছি।’ নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মতলার ওই মিছিলে পুলিশ ও সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় এদিন আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ফলে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪। এর আগে শনিবার পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে কেউই ছাত্র নন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার নেপথ্যে বিদেশি শক্তি?
তাহলে কারা মিছিল থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাল? সেই প্রশ্নে বিদেশি মৌলবাদী শক্তির হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। শুভেন্দুর কথায়, ‘যারা সাংবাদিকদের ওপরে হামলা চালিয়েছে, তারা বিদেশি শক্তির মদতপুষ্ট হতে পারে।’
সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ধৃতদের একজনের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূলের যোগ পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস তো জামাতিদের পার্টি। ফলে জামাতির সঙ্গে যোগ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।’ তাঁর সংযোজন, ‘আন্দোলনের নামে যারা গুন্ডাগিরি করেছে তারা জামাত, মৌলবাদী। ভারতবর্ষকে তারা দুর্বল করতে চায়, অশান্ত করতে চায়। গুন্ডাদমন আইনের মাধ্যমেই ওদের দমন করা হবে।’
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার জন্যই নতুন এই গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হবে। রাজ্যসভার সাংসদ ও তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এক্স হ্যান্ডলে রবিবার লেখেন, ‘ইডি, সিবিআই-সহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে যে ভাবে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে ব্যবহার করে, ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গের নতুন গুন্ডাদমন আইনকে হাতিয়ার করা হবে।’
মৌলবাদীদের ক্ষোভের কারণ কী? ব্যাখ্যা শুভেন্দুর
মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুতর অভিযোগের পর প্রশ্ন ওঠে, মৌলবাদীরা কেন বাংলাকে নিশানা করল? এর ব্যাখ্যা দিয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্য সরকারের কিছু কড়া পদক্ষেপের কারণেই তাদের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। তাঁর কথায়, ‘গত দশ সপ্তাহ ধরে রাজ্যে বিজেপির রাষ্ট্রবাদী সরকার চলছে। তারা যে সিদ্ধান্তগুলো আইনিভাবে কার্যকর করতে চেয়েছে, সেই যন্ত্রণা থেকেই এই অসভ্যতামি করা হয়েছে।’
সরকারি সেই সিদ্ধান্তগুলির তালিকা দিয়ে তিনি বলেন, ‘খারিজি মাদ্রাসার রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তদন্ত চলছে, তাই ওদের রাগ হয়েছে। অনেকের অবৈধ ওবিসি সার্টিফিকেট হাইকোর্ট বাতিল করেছে, আমরা তা কার্যকর করেছি। ১৯৫০ সালের পশু হত্যা আইন কার্যকর হয়েছে এবং সাউন্ড পলিউশন নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে—এসব কারণেই ওদের রাগ।’
ধৃতদের পুলিশ হেফাজত
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবারের মিছিলে অশান্তি পাকানোর অভিযোগে রবিবার যে নতুন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা হলেন— শাহবাজ খান (৩৪), মহম্মদ সালমান হুসেন (২৯) এবং মহম্মদ জোহিরুদ্দিন মাল (৩২)। ধৃত মোট ১৪ জনকে এ দিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।
