‘পড়ানো ছেড়ে কাজের ডিউটি!’ শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে স্কুল, অন-ডিউটি ছুটির দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সিউড়ি: ভোটের ডিউটি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এবার জনগণনা—সারা বছর ধরে একাধিক প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বে নাজেহাল বীরভূমের শিক্ষক সমাজ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জেলাজুড়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠনে। বিশেষ করে যে সমস্ত স্কুলে মাত্র এক বা দুজন শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে শিক্ষকদের এই ধরণের অশিক্ষক কাজে ব্যস্ত থাকার ফলে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকছে এবং চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে পড়ুয়ারা।
এই পরিস্থিতির প্রতিকারে এবং শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরব হয়েছে শিক্ষক সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ’। সম্প্রতি তারা বীরভূমের জেলাশাসক এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকের (প্রাথমিক) কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, জাতীয় স্বার্থে জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের প্রশাসনিক জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে এবং অকারণে বেতন কাটা বা ছুটি নষ্ট হওয়া রুখতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন ডিউটি’ (On Duty) ছুটি মঞ্জুর করতে হবে।
সংগঠনের জেলা সভাপতি বামাচরণ রায় জানান, একই দিনে ক্লাসরুমে পড়ানো এবং ক্ষেত্রপর্যায়ের প্রশাসনিক কাজ করা একজন শিক্ষকের পক্ষে আসাম্ভব। এতে শারীরিক ও মানসিক চাপের পাশাপাশি দুটি কাজই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে পঠনপাঠনের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে সুনির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা জারির দাবি জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে উচ্চতর কর্তৃপক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশিকা আসেনি।
