৮ ঘণ্টার ঘুমেই কি রুখবে ডিমেনশিয়া? মদ্যপান ও মানসিক চাপ নিয়ে চিকিৎসকের চমকে দেওয়া তথ্য! – এবেলা
October 5, 2026
এবেলা ডেস্কঃ
আজকের দ্রুতগতির জীবনে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ব্রেন হেলথ বা মস্তিষ্কের সুস্থতা নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই বেশ কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। মানসিক চাপ, ঘুম এবং প্রতিদিনের অভ্যাসের প্রভাব ঠিক কতটা মস্তিষ্কে পড়ে—তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্নায়ুরোগ চিকিৎসকরা।
মানসিক চাপ ও স্মৃতিশক্তি লোপ: আসল অপরাধী কে? চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রায় আমাদের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ক্রনিক স্ট্রেস বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ।
- হরমোনের তারতম্য: স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরে কর্টিসল হরমোন সকালে বেশি ও রাতে কম থাকে। কিন্তু অনবরত দুশ্চিন্তায় থাকলে সারাদিনই কর্টিসলের মাত্রা উচ্চ থাকে।
- মস্তিষ্কে প্রভাব: অতিরিক্ত কর্টিসল মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস ও প্রিফ্রঞ্চল কর্টেক্স ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে মনোযোগ কমে এবং স্মৃতিশক্তি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যা দেখতে অনেক সময় ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রংশের মতো মনে হয়।
৮ ঘণ্টার ঘুম কি সবার জন্য বাধ্যতামূলক? ‘সুস্থ থাকতে রোজ ৮ ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে’—এই ধারণাকে পুরোপুরি সত্য বলছেন না বিশেষজ্ঞরা।
- ব্যক্তিভেদে তারতম্য: কারও জন্য ৬-৭ ঘণ্টার ঘুম যথেষ্ট, আবার কারও ১০-১১ ঘণ্টার প্রয়োজন হতে পারে। ঘুমের সময়সীমার চেয়ে ঘুমের গুণমান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- বায়োলজিক্যাল ক্লক: শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন একই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা উচিত।
- সকালের রোদ: সকালে ঘুম থেকে উঠে ১০-১৫ মিনিট বাইরের প্রাকৃতিক আলো গায়ে লাগলে ক্লান্তি দূর হয় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক সঠিক থাকে। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক তার ভেতরের ক্ষতিকারক প্রোটিন পরিষ্কার করে।
অ্যালকোহল ও মস্তিষ্কের সুরক্ষা বা ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’
- দৈনিক মদ্যপানের বিপদ: অনেকেই মনে করেন দিনে ১-২ পেগ মদ খাওয়া নিরাপদ। কিন্তু ২০-৩০ বছর ধরে নিয়মিত অল্প অ্যালকোহল খেলেও তা ব্রেনের সামঞ্জস্য ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে। তাই মদ্যপানকে দৈনন্দিন অভ্যাস না বানিয়ে কেবল বিশেষ উপলক্ষেই সীমাবদ্ধ রাখা ভালো।
- কগনিটিভ রিজার্ভ কীভাবে বাড়াবেন: বয়সকালে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্স এড়াতে মস্তিষ্ককে সবসময় ব্যস্ত রাখা প্রয়োজন। নতুন কোনো ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, সামাজিক মেলামেশা বাড়োনো বা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করা মস্তিষ্কে ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ তৈরি করে, যা বার্ধক্যেও ব্রেনকে সচল ও তীক্ষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
