IPL ২০২৬: ক্রিকেটারদের ‘হানি-ট্র্যাপ’ থেকে বাঁচাতে তৎপর BCCI, টিম হোটেলে চলবে আচমকা তল্লাশি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আইপিএল ২০২৬ চলাকালীন ক্রিকেটারদের ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের হাত থেকে বাঁচাতে বেনজির কড়াকড়ি শুরু করল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য আট পাতার একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠিয়ে ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ এবং দলের মালিকদের সতর্ক করেছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। মূলত তথ্য ফাঁস এবং অসাধু চক্রের ফাঁদ থেকে টুর্নামেন্টকে কলঙ্কমুক্ত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।
হানি ট্র্যাপ ও তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
বিসিসিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখার (এসিইউ) এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আইপিএল চলাকালীন ক্রিকেটার বা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা সুকৌশলে প্রেমের ফাঁদ পেতে ব্ল্যাকমেইলিং করার ঝুঁকি বাড়ছে। অচেনা নারীদের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে ম্যাচ সংক্রান্ত গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা করছে বোর্ড। চলতি মরশুমে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বোর্ডের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি শুধু খেলার স্বচ্ছতাই নষ্ট করবে না, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর আইনি জটিলতাও তৈরি করতে পারে।
হোটেলে কড়া নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফের ঘরে বাইরের কোনো অতিথি প্রবেশ করতে পারবেন না। বন্ধু বা আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে হলে হোটেলের লবি বা রিসেপশন ব্যবহার করতে হবে। এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরাও ডাগআউট বা ড্রেসিংরুমে গিয়ে ক্রিকেটারদের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারবেন না।
শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বোর্ড একটি বিশেষ ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন করেছে। এই বাহিনী যেকোনো সময় আকস্মিকভাবে খেলোয়াড়দের হোটেলের কক্ষে তল্লাশি চালাতে পারবে। তল্লাশিকালে যদি কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি কারো ঘরে পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া স্টেডিয়াম ও হোটেলে সব সময় পরিচয়পত্র (অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড) ঝোলানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বোর্ডের এই কঠোর নির্দেশিকা ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাবলয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইপিএলের ভাবমূর্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য আইনি বিপদ ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করেছে বিসিসিআই।
