NEET কান্ডে সিবিআই-এর জালে আরও ২, এবার কি তবে এনটিএ-র অন্দরেই লুকিয়ে অপরাধী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার তদন্তের তির সরাসরি ব্যবস্থার অন্দরে। দীর্ঘ তল্লাশির পর পুণে ও লাতুরে অভিযান চালিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রের গোপন সুরক্ষা বলয় বা ‘চেন অফ কাস্টডি’ কীভাবে ভাঙা সম্ভব হলো।
তদন্তের রাডারে এনটিএ কর্মকর্তারা
সিবিআই এনটিএ-র কাছে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের তালিকা চেয়েছে, প্রশ্নপত্র সিল হওয়ার আগে যাদের কাছে সেটির নিয়ন্ত্রণ ছিল। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ প্যানেল এবং প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রতিটি স্তরের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অভ্যন্তরীণ ব্যক্তির সাহায্য ছাড়া এত বড় মাপের ফাঁদ পাতা সম্ভব নয় বলেই তদন্তকারীদের ধারণা। পুণে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মনীষা ওয়াঘমারে নামে এক নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রশ্ন ফাঁসের বিপুল টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে, লাতুরের একটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত কেমিস্ট্রি অধ্যাপককে জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক করা হয়েছে।
অনুবাদের আড়ালে বড় চক্রের হদিস
নিট পরীক্ষা দেশের ১৩টি ভাষায় অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রশ্নপত্রের মারাঠি অনুবাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলের সদস্যদের মাধ্যমেই ফাঁস হতে পারে মূল তথ্য। এছাড়া লাতুরের একটি নামী কোচিং সেন্টারের মক টেস্টের ৪২টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ায় রহস্য আরও বেড়েছে। রাজস্থানের সিকার জেলা এবং হরিয়ানার গুড়গাঁও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নের ডিজিটাল কপি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিপুল আর্থিক লেনদেনের উৎস সন্ধানে সিবিআই এখন ধৃতদের রিমান্ডে নিয়ে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই চক্রের মূল শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা নিশ্চিত হওয়াই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।
