NEET পরীক্ষায় বিরাট জালিয়াতি! পরীক্ষার আগেই হাতে এল ‘গ্যাস পেপার’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-২০২৬’ (NEET) ঘিরে বড়সড় দুর্নীতির খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পরীক্ষা বাতিলের পর তদন্তে নেমে রাজস্থানের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। জানা গেছে, পরীক্ষার দু’দিন আগেই পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল একটি বিশেষ ‘গেজ পেপার’, যার অধিকাংশ প্রশ্নই মূল পরীক্ষার সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত মোট ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কেরল থেকে রাজস্থান ও বিশাল প্রশ্নফাঁস চক্র
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, প্রশ্নফাঁসের এই জাল ছড়িয়েছিল কয়েক হাজার কিলোমিটার জুড়ে। কেরলে পাঠরত রাজস্থানের চুরু জেলার এক এমবিবিএস পড়ুয়া এই গেজ পেপারটি সিকরে তার এক বন্ধুকে পাঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে এটি পৌঁছায় এক পিজি হোস্টেল মালিকের হাতে, যিনি হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি বিলিয়ে দেন। এসওজি-র অতিরিক্ত মহাপরিচালক বিশাল বনসাল জানিয়েছেন, গেজ পেপারটি ছিল ২৫০ পাতার একটি বিশাল পিডিএফ ফাইল। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মূল পরীক্ষার ১২০টি প্রশ্ন এই গেজ পেপার থেকে হুবহু কমন এসেছিল, যার মধ্যে রসায়ন বা কেমিস্ট্রি বিভাগের ভার ছিল সবথেকে বেশি।
ক্যারিয়ার কাউন্সিলরের ভূমিকা ও গ্রেফতারের অভিযান
এই চক্রে রাকেশ মন্দাওয়ারিয়া নামে এক ক্যারিয়ার কাউন্সিলরের নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। অভিযোগ, রাকেশ অনেক আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের এই প্রশ্নগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং তাদের কাছে উত্তরপত্র সরবরাহ করেছিলেন। এসওজি-র দুটি দল সিকোর ও ঝুনঝুনু জেলায় তল্লাশি চালিয়ে এই জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পায়। শেষমেশ উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন থেকে রাকেশসহ আরও তিনজনকে পাকড়াও করা হয়েছে। এছাড়া মণীশ যাদব ও অবিনাশ লাম্বা নামের দুই যুবকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্তের প্রভাব ও রাজনৈতিক বিতর্ক
পরীক্ষা বাতিলের এই সিদ্ধান্তে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে এসওজি। তবে এই ঘটনা নিয়ে রাজস্থানে রাজনৈতিক পারদও চড়তে শুরু করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বর্তমান বিজেপি সরকারকে নিশানা করে দাবি করেছেন, এত বড় দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং দুই সপ্তাহ ধরে সরকার বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। বর্তমানে এই চক্রের মূল উৎস এবং আরও রাঘববোয়ালদের হদিস পেতে তদন্ত জারি রয়েছে।
