TCS-এ চাঞ্চল্যকর ধর্মান্তকরণ ও যৌন হেনস্থা, গ্রেফতার ৭!

নাসিকের টিসিএস অফিসে চাকরির আড়ালে ধর্মান্তকরণ ও হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৭
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান টিসিএসের (TCS) নাসিক শাখায় ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) এবং গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক റിപ്പോোর্ট অফিসের ভেতরকার এক অন্ধকার চিত্র তুলে ধরেছে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে নিয়োগপ্রাপ্ত নারী কর্মীদের ওপর যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তকরণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো। এই ঘটনা কেবল কর্পোরেট জগতের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার অভাবকেই নির্দেশ করে না, বরং সুপরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় প্ররোচনা ও ব্ল্যাকমেলের একটি চক্রকেও উন্মোচিত করেছে।
কীভাবে চলত এই ‘টার্গেট’ করার কাজ?
তদন্তে উঠে এসেছে, নিয়োগের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট কিছু হিন্দু তরুণীকে টার্গেট করা হতো। অভিযুক্ত টিম লিডাররা অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের জালে ফেলার চেষ্টা চালাতেন।
- মগজধোলাই ও প্রলোভন: অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী তরুণীদের প্রলোভন দেখাতেন যে, ইসলাম গ্রহণ করলে বিদেশে ভালো সুযোগ ও উন্নত জীবন পাওয়া যাবে। এমনকি একজনের অসুস্থ পিতাকে সুস্থ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ধর্মান্তকরণের চাপ দেওয়া হতো।
- ধর্মীয় অনুশাসনে বাধ্য করা: আক্রান্ত কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের জোর করে রোজা রাখতে বাধ্য করা হতো। কপালে তিলক পরায় বাধা দেওয়া হতো এবং জোর করে গোমাংস খাওয়ানোর মতো অভিযোগও এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তরুণীদের বোরখা পরা ও নামাজ পাঠে বাধ্য করার প্রমাণ মিলেছে।
- ব্ল্যাকমেল ও যৌন হেনস্থা: প্রেমের অভিনয় কিংবা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মতো ঘটনা ঘটানো হতো। পরবর্তীকালে সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের গোপন ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে তাদের ব্ল্যাকমেল করা হতো, যাতে তারা ধর্মান্তকরণে রাজি হয়।
এইচআর ম্যানেজার ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা
এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগের দিক হলো, অফিসের এইচআর ম্যানেজার নিদা খানসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল আধিকারিকদের বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে অভিযোগকারী নারীদের চাকরি থেকে বরখাস্তের ভয় দেখানো হতো। এরপরই নাসিক পুলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে ছদ্মবেশে মহিলা পুলিশকর্মীদের ‘হাউসকিপিং স্টাফ’ হিসেবে অফিসের ভেতরে নিয়োগ করে সঠিক তথ্য ও প্রমাণ জোগাড় করে। এই অভিযানের পরই এইচআর ম্যানেজার নিদা খানসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে আসিফ আনসারি, দানিশ শেখ এবং শাহরুখ কুরেশির মতো টিম লিডাররা রয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহল এই ঘটনা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিএসএস-এর ধারা ৬৯ (ধর্ষণ), ধারা ৭৫ (যৌন হেনস্থা) এবং ধারা ২৯৯ (ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত) এর মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরীশ মহাজন এই ঘটনাকে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, টিসিএস কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অটল। অভিযুক্তদের ইতোমধ্যেই সংস্থা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- ঘটনার কেন্দ্রস্থল: টিসিএস, নাসিক অফিস।
- প্রধান অভিযোগ: চাকরির প্রলোভনে নারী কর্মীদের যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তকরণের চাপ।
- কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল: পুলিশের গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে তদন্ত চালিয়ে সত্য উদঘাটন করে।
- গ্রেপ্তার: এইচআর ম্যানেজার নিদা খানসহ মোট ৭ জন।
- আইনি পরিস্থিতি: ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
- কর্তৃপক্ষের অবস্থান: অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করেছে টিসিএস এবং তারা ঘটনার পূর্ণ তদন্তে সহযোগিতা করছে।
