অনুপ্রবেশ রুখতে জীবনতলায় তৈরি হল নিশ্ছিদ্র হোল্ডিং সেন্টার, কড়া পাহারায় কাকপক্ষীও পার হওয়ার জো নেই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য তৈরি করা হল এক নিশ্ছিদ্র হোল্ডিং সেন্টার। ক্যানিং মহকুমার জীবনতলা থানার ঝোড়রমোড় এলাকায় নবনির্মিত এই কেন্দ্রটি সুরক্ষার দিক থেকে কার্যত এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। কড়া পুলিশি পাহারার কারণে সাধারণ মানুষ তো দূর, ওই এলাকায় বাইরের কারোর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে এই সেন্টারে পাঁচজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
পুরনো কর্মতীর্থ এখন কড়া সুরক্ষার হোল্ডিং সেন্টার
যে ভবনটিতে এই হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে, তার একটি ভিন্ন অতীত রয়েছে। ২০১৮ সালে এই ভবনটি মূলত একটি ‘কর্মতীর্থ’ কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে এটিকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফাঁকাই পড়েছিল। বর্তমানে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে এটিকে হোল্ডিং সেন্টারে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই সেন্টারের চারপাশে উঁচু পাঁচিল এবং তার ওপর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ চলছে। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি জীবনতলা থানার পুলিশ বাহিনী পুরো এলাকার নিরাপত্তা বলয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সম্প্রতি জেলার ঘুটিয়ারি শরিফ, মল্লিকপুর এবং সোনারপুর এলাকা থেকে পাঁচজন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁদের এই সেন্টারে রেখে দিনে তিনবার খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। ক্যানিংয়ের মহাকুমা শাসক প্রবীণ মালিয়াল জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনেই সিসিটিভি নজরদারি এবং সার্বিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে সমস্ত পরিকাঠামোগত কাজ এখনও বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র তৈরির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করেছে প্রশাসন। সমস্ত কাগজপত্র প্রস্তুত হলেই তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো বিস্তীর্ণ সীমান্ত সংলগ্ন জেলায় মাত্র একটি হোল্ডিং সেন্টারই পর্যাপ্ত কি না, নাকি আগামী দিনে এমন আরও কেন্দ্র তৈরি হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে।
