অন্ধবিশ্বাসের ফাঁদে নাভিঃশ্বাস, নাসিকে দিব্য শক্তির ভয় দেখিয়ে তরুণীকে লালসার শিকার বানালেন ভণ্ড বাবা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের নাসিকে আধ্যাত্মিকতার আড়ালে ফের এক বীভৎস অপরাধের চিত্র ফুটে উঠেছে। ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে মানসিক স্বস্তি ও চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মহেশগিরি বাবা ওরফে মহেশ দিলীপ কাকড়ে নামক এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে। মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে ওই তরুণী সপরিবারে অভিযুক্তের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণীকে বিশেষ পূজার নামে লজে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করে বলে পুলিশি অভিযোগে জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল
তদন্তে জানা গেছে, গত আগস্টে লজে নিয়ে যাওয়ার পর ওই তরুণী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাকে রুদ্রাক্ষ দেখিয়ে ভয় দেখায়। নিজের তথাকথিত ‘দিব্য শক্তি’র দোহাই দিয়ে সে দাবি করে যে, তার অলৌকিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে তরুণী কিছুই করতে পারবে না। শুধু শারীরিক শোষণই নয়, তরুণীর আপত্তিকর ছবি তুলে পরবর্তীতে সেগুলিকে হাতিয়ার করে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে ওই ভণ্ড বাবা। পুলিশি পদক্ষেপ এড়াতে সে নিজেকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে পরিচয় দেয় এবং তরুণীর ফোন থেকে সমস্ত প্রামাণ্য তথ্য মুছে ফেলে।
সামাজিক প্রভাব ও প্রশাসনের ভূমিকা
ঘটনার আকস্মিকতায় নির্যাতিতা দীর্ঘ সময় আতঙ্কিত ও চুপ থাকলেও, শেষ পর্যন্ত অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির সহযোগিতায় পুলিশের দ্বারস্থ হন। নাসিকে এর আগেও একাধিকবার এমন ভণ্ড সাধুদের কুকীর্তি ফাঁস হয়েছে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, ধর্মের নামে অন্ধবিশ্বাস কীভাবে সমাজে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। বর্তমানে পুলিশ ডিজিটাল ও ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহ করছে এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষকে এমন প্রতারকদের হাত থেকে সচেতন হতে সাহায্য করবে।
এক ঝলকে
- মহারাষ্ট্রের নাসিকে ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মহেশগিরি বাবা গ্রেফতার।
- মানসিক প্রশান্তির নামে তরুণীর বিশ্বাস অর্জন করে তাকে লজে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানো হয়।
- ‘দিব্য শক্তি’র ভয় দেখিয়ে এবং আপত্তিকর ছবি তুলে দীর্ঘ সময় ধরে তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করে অভিযুক্ত।
- অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির সহায়তায় নির্যাতিতা অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়।
