অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই, মহিলাদের আশ্বস্ত করে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণ নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দূর করতে সরাসরি ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি এই প্রকল্পের জন্য ১২ পাতার একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত ফর্ম প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ ও কম শিক্ষিত উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যে ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে একটি কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, বিন্দুমাত্র বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ সরকারি কর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন।
বিভ্রান্তি কাটাতে প্রশাসনের দুয়ারে পৌঁছানোর উদ্যোগ
১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মে বিপুল তথ্য পূরণ করা সাধারণ উপভোক্তাদের জন্য বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। ফর্মের দৈর্ঘ্য এবং প্রয়োজনীয় নথির আধিক্যই মূলত গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি আঁচ করেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রকৃত প্রাপকদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তাই শুধু আবেদনপত্র জমা নেওয়াই নয়, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি মানুষের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন।
সহজ প্রক্রিয়া ও কড়া নজরদারি
এই মেগা প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও সহজ করতে অনলাইন এবং অফলাইন—দুই পদ্ধতিতেই আবেদন জমা নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিডিও অফিস এবং প্রশাসনিক স্তরে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা লাঘব করা, অন্যদিকে তেমনই তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে কোনো অযোগ্য বা বেআইনি আবেদনকারী যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না নিতে পারে তা নিশ্চিত করা।
নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী ৯০ দিন ধরে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক ফর্ম জমা পড়লে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি আশ্বাসের পর ফর্ম পূরণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কেটেছে এবং উপভোক্তাদের মধ্যে বড়সড় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
