অভিষেকের সফরের আগেই বীরভূম তৃণমূলে বড় ধাক্কা, কোর কমিটি থেকে ইস্তফা অনুব্রত ঘনিষ্ঠ অভিজিতের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ ও গৃহদাহ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। এবার বড়সড় ভাঙন দেখা দিল বীরভূম জেলা তৃণমূলে। জেলার দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা দলের কোর কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর জেলা নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার বীরভূম সফরে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আর ঠিক তার আগেই এই পদত্যাগ জেলা রাজনীতিতে নতুন অস্বস্তি ও জল্পনা তৈরি করেছে।
কোর কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
গরু পাচার মামলায় জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল জেলবন্দি হওয়ার পর বীরভূমের সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি কোর কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অভিজিৎ সিনহা। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে লাভপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর ক্ষোভ জমছিল। এবার প্রকাশ্যেই কোর কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভিজিৎ সিনহার অভিযোগ, ফল প্রকাশের প্রায় একমাস কেটে গেলেও কোর কমিটির পক্ষ থেকে একটি বৈঠকও ডাকা হয়নি। দীর্ঘদিন জেলা সভাপতি না থাকায় কোর কমিটিই সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছিল, কিন্তু নির্বাচনের সময় সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।
ক্ষোভের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের উদাসীনতাকেই মূলত এই ইস্তফার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদায়ী কমিটির সদস্য অভিজিৎ সিনহার মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করে নিচুতলার কর্মীরাই জেলার পাঁচটি আসনে দলের জয় এনে দিয়েছেন। অথচ দলের এই বিপর্যয়ের পর পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করার মতো কোনো জবাব নেতৃত্বের কাছে নেই। কর্মীদের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূম তৃণমূলে যে কোন্দল ও সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছিল, এই পদত্যাগ তারই বহিঃপ্রকাশ। অভিষেকের সফরের মুখে এই হেভিওয়েট নেতার ইস্তফা শুধু বীরভূমের দলীয় সংগঠনেই বড় ধাক্কা নয়, বরং জেলার নিচুতলার কর্মীদের মনোবলও ভেঙে দিতে পারে, যার প্রভাব আগামী দিনে দলের সামগ্রিক রাজনীতিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
