আংটি চুরির অপবাদে রক্তাক্ত পরিচারিকা, কাঠগড়ায় টলিউড অভিনেতা সম্রাট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা শহরের বুকে ফের এক গৃহপরিচারিকার ওপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। নারী সুরক্ষা ও মানবাধিকারের স্লোগানের মাঝেই এক অসহায় মহিলার ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড় টালিগঞ্জ এলাকা। আংটি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক গৃহপরিচারিকাকে বেধড়ক মারধর এবং আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে টলিউডের পরিচিত ধারাবাহিক অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। গত ২৭শে মে বিকেলে হরিদেবপুর থানা এলাকার ধাড়াপাড়া জোড়াপুকুর সংলগ্ন অভিনেতার বাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর রাতেই নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই মহিলা বিগত এক মাস ধরে অভিনেতা সম্রাট মুখার্জীর বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করছিলেন। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন জিনিসপত্র হারিয়ে গেলে সন্দেহের তির যেত ওই মহিলার দিকে। পেটের দায়ে সমস্ত অপমান মুখ বুজে সহ্য করে সেখানে কাজ করছিলেন তিনি। গত ২৭শে মে বিকেলে অভিনেতার একটি আংটি খুঁজে না পাওয়ায় চরম রূপ নেয় এই পরিস্থিতি। সারা বাড়ি খোঁজাখুঁজি করার পর এবং পুলিশে খবর দেওয়ার কথা বলে ওই মহিলাকে একটি ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। জোরপূর্বক তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করেও কিছু না মেলায় অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
লাঠি ও বুট উঁচিয়ে নৃশংস অত্যাচার
অভিযোগ, চুরির প্রমাণ না পেয়ে অভিনেতা বাড়ির দারোয়ানকে ডেকে লাঠি নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এরপর সেই লাঠি দিয়ে অসহায় মহিলার ওপর নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযুক্ত অভিনেতা। লাঠির উপরিউপরি আঘাতে মহিলার মাথা ফেটে যায় এবং নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে হাতের আঙুলগুলোতেও গুরুতর চোট লাগে। এখানেই শেষ নয়, রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে মেঝেতে ফেলে বুট জুতো দিয়ে মাথা ও কান মাড়িয়ে যাওয়া হয় এবং বুকে-পিঠে অনবরত লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে দেওয়ালে কপাল সজোরে ঠুকে দেওয়ার ফলে কপাল ফুলে রক্ত জমে যায়। এই নারকীয় নির্যাতনের পর বিকেল ৫টা নাগাদ মুখ ও শরীর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মহিলার মাথায় ৪টি সেলাই পড়ে।
অভিযোগ অস্বীকার অভিনেতা সম্রাটের
মারধরের এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়। তাঁর সাফাই, ওই পরিচারিকা তাঁর বাড়িতে ২৬ দিনের মতো কাজ করছেন। তিনি তাঁকে কোনওভাবেই মারধর করেননি। আংটি খুঁজে না পাওয়ায় দারোয়ান ওই মহিলার ওপর সন্দেহ করেছিল। অভিনেতা পুলিশ ডাকার কথা বলতেই পরিচারিকা ভয় পেয়ে যান এবং ঘরের সমস্ত জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে নিজেই দেওয়ালে মাথা ঠোকেন। পরবর্তীতে তিনি বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে যান এবং গ্রিলে মাথা ঠুকে আহত হন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিনেতার বক্তব্য, পুরো ঘটনাটি সাজানো এবং মহিলা নিজেই নিজেকে আহত করেছেন।
গ্ল্যামার জগতের এক পরিচিত মুখের বিরুদ্ধে ওঠা এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা বিনোদন জগৎসহ নাগরিক সমাজে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। ঘটনার পেছনে আসল সত্যি কী, তা খতিয়ে দেখতে হরিদেবপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
