আধার কার্ডে বারবার সংশোধনের দিন শেষ, জেনে নিন কোন তথ্য কতবার বদলাতে পারবেন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আধার কার্ডে বারবার ভুল তথ্য সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রবণতায় লাগাম টানল ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)। এখন থেকে নাম, জন্ম তারিখ এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লিমিট বা সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে আধার কার্ড লক বা রিজেক্ট হয়ে যাওয়ার মতো বড়সড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন নাগরিকরা। মূলত আধার জালিয়াতি রুখতে এবং এই জাতীয় নথির সুরক্ষা আরও জোরদার করতেই এই কঠোর গাইডলাইন আনা হয়েছে।
সীমাবদ্ধতার নতুন তালিকা ও নিয়ম
UIDAI-এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন নাগরিক তাঁর জীবনে মাত্র দুই বার আধারে নাম পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারবেন। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা বানানের ভুল— কারণ যাই হোক না কেন, দুই বারের পর এই অপশনটি চিরতরে লক হয়ে যাবে। জন্ম তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর, যা জীবনে মাত্র এক বারই সংশোধন করা সম্ভব এবং তা-ও সর্বোচ্চ প্লাস-মাইনাস ৩ বছরের ব্যবধানে হতে হবে। একইভাবে লিঙ্গ পরিবর্তনের সুযোগও জীবনে কেবল এক বারই মিলবে।
তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাসস্থান পরিবর্তন বা মোবাইল নম্বর বদলের ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধ্বসীমা রাখা হয়নি। ঠিকানার প্রমাণপত্র দিয়ে যতবার খুশি ঠিকানা বদলানো যাবে। একইভাবে আধার সেন্টারে গিয়ে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মাধ্যমে আনলিমিটেড বার মোবাইল নম্বর আপডেট করা সম্ভব। এছাড়া ইমেল আইডি এবং ছবি বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট আপডেটের ক্ষেত্রেও কোনো ফিক্সড লিমিট নেই। তবে ৫ এবং ১৫ বছর বয়সে শিশুদের বায়োমেট্রিক আপডেট করা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে, আধার কার্ড তৈরির ১৪ বছর পেরিয়ে গেলে ‘ডকুমেন্ট আপডেট’ করাও এখন আবশ্যক করেছে সংস্থাটি।
অনলাইন বনাম আধার কেন্দ্র এবং সীমা পেরোলে করণীয়
ঠিকানা পরিবর্তন, ইমেল এবং নথিপত্র আপডেটের মতো কাজগুলো ঘরে বসেই myAadhaar পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে ৫০ টাকা ফি দিয়ে করা যাবে। আগামী ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ১৪ বছরের পুরোনো আধারের ডকুমেন্ট আপডেট বিনামূল্যে করার সুযোগ রয়েছে। তবে নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ বা বায়োমেট্রিক সংক্রান্ত পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিয়ে অবশ্যই নিকটবর্তী আধার সেবা কেন্দ্রে যেতে হবে।
যদি কোনো নাগরিক নির্দিষ্ট সীমা পার করার পর আবারও তথ্য সংশোধনের চেষ্টা করেন, তবে অনলাইনে সেই আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এফিডেভিট, গেজেট নোটিফিকেশন বা পাসপোর্টের মতো শক্তিশালী নথিপত্র নিয়ে সরাসরি UIDAI-এর রিজিওনাল অফিসে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। ভুল বা ভুয়া তথ্য দিয়ে বারবার আপডেটের চেষ্টা করলে আধার কার্ডটি স্থায়ীভাবে সাসপেন্ড হতে পারে, এমনকি আধার আইন ২০১৬ অনুযায়ী জেল ও জরিমানারও বিধান রয়েছে।
