আবাস যোজনার বাড়ি পেতে আর লাগবে না সমীক্ষক! সাধারণ মানুষের জন্য রাজ্য আনল দুর্দান্ত অ্যাপ – এবেলা

আবাস যোজনার বাড়ি পেতে আর লাগবে না সমীক্ষক! সাধারণ মানুষের জন্য রাজ্য আনল দুর্দান্ত অ্যাপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ) প্রকল্পে বাড়ি পাওয়ার নিয়মে এক যুগান্তকারী বদল এল। এবার থেকে আর বাড়িতে সমীক্ষক আসার জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে হবে না। যোগ্য উপভোক্তারা নিজেরাই এবার নিজেদের তথ্য যাচাই (Self-Survey) করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে এক বিশেষ মোবাইল অ্যাপ।

গুগল প্লে-স্টোর কিংবা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://Pmayg.nic.in) থেকে ‘আবাস প্লাস’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে আবেদনকারীরা বাড়ি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য ও নথিপত্র নিজেরাই আপলোড করতে পারবেন। বিগত সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে এই ধরনের আধুনিক সুবিধা ছিল না।

৪ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে প্রক্রিয়া:

গত ৪ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে এই সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৪ আগস্ট পর্যন্ত। প্রায় ৬ হাজার সমীক্ষক এই মুহূর্তে এআই (AI) নির্ভর ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ অ্যাপের মাধ্যমে আধার ভিত্তিক ‘ফেস অথেন্টিকেশন’ বা মুখমণ্ডলের ছবি যাচাই করে সমীক্ষা চালাচ্ছেন। তবে কোনও প্রত্যন্ত এলাকায় যদি সমীক্ষকরা পৌঁছাতে নাও পারেন, কিংবা রাজনৈতিক অশান্তির কারণে বাধা পান— তাহলেও যোগ্য ব্যক্তিরা এই অ্যাপের মাধ্যমে ‘সেলফ সার্ভে’ করে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। অবশ্য, নিজস্ব আবেদনের পর প্রশাসন ১০০ শতাংশ যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে।

কারা পাবেন এই বাড়ি?

রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর জানিয়েছে, গৃহহীন ব্যক্তি, মাটির দেওয়াল ও খড়-বাঁশ-প্লাস্টিকের ছাদযুক্ত কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার এবং সরকারি পোর্টালে অভিযোগ জানানো যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলি এই সুবিধা পাবে।

কারা পাবেন না?

পাকা বাড়ির মালিক, দুটির বেশি ঘর থাকা পরিবার, সরকারি কর্মচারী, আয়কর বা পেশা করদাতা, নির্দিষ্ট যানবাহন বা বড় কৃষিজমির মালিকরা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন।

তিন কিস্তিতে মিলবে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা:

এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে প্রতি পরিবারকে বাড়ি তৈরির জন্য মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। টাকা মিলবে তিনটি কিস্তিতে। প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা করে এবং বাড়ি তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তৃতীয় কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। তবে শর্ত একটাই, প্রতি কিস্তির টাকা পাওয়ার পর বাড়ির অগ্রগতির ছবি অ্যাপে আপলোড করতে হবে, যা সরাসরি নজরদারি করবে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *