‘আমার ভুল যেন ছেলে না করে!’ জাতীয় দলে সুযোগ ও পড়াশোনা ছাড়ার গল্পে বাইচুং ভুটিয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 12, 20267:33 pm
সিকিমের প্রত্যন্ত গ্রাম টিংকিটাম থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে ভারতীয় ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যিনি চিরকাল পরিচিত ‘পাহাড়ি বিছে’ নামে, সেই কিংবদন্তি ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া সম্প্রতি ‘রাইজিং ভারত সামিট’ (ইস্ট এডিশন)-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে শোনালেন তাঁর শৈশব ও কৈশোরের এক অজানা সংগ্রামের কথা।
জাতীয় দলের জন্য পড়াশোনা বন্ধের সিদ্ধান্ত
বাইচুং স্মৃতিচারণ করে জানান, মাত্র ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে খেলার সুবর্ণ সুযোগ পান তিনি। সেই সুযোগ হাতছাড়া না করতে গিয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই তাঁকে পড়াশোনা থেকে সাময়িক ড্রপআউট হতে হয়েছিল। ফলে তাঁর জীবনের একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয় এবং এক বছর পর তাঁকে দশম শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষা দিতে হয়।
বাবা হিসেবে বাইচুংয়ের বার্তা
বর্তমানে বাইচুংয়ের নিজের ছেলের বয়সও ১৬ বছর। তবে একজন বাবা হিসেবে তিনি স্পষ্ট জানান, নিজের জীবনের সেই কঠিন সিদ্ধান্ত বা ভুলের পুনরাবৃত্তি তিনি ছেলের জীবনে দেখতে চান না। বাইচুং চান, তাঁর ছেলেও ফুটবল খেলুক, তবে কোনোভাবেই পড়াশোনা বিসর্জন দিয়ে নয়। খেলার পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা যেন সমান তালে চলে, সেই বিষয়ে তিনি কঠোর।
উদীয়মান ফুটবলারদের বিকাশ ও পরিকাঠামো
শুধু নিজের সন্তান নয়, সারা দেশের ১৮০ জনেরও বেশি কোচের মাধ্যমে তাঁর একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণ খেলোয়াড়দের সার্বিক বিকাশ নিয়েও বাইচুং অত্যন্ত সচেতন। তিনি জানান, তাঁদের লক্ষ্য কেবল মাঠের ফুটবল কৌশল শেখানো নয়, বরং খুদে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা।
দেশের বর্তমান ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি মানেন যে আগের তুলনায় সুযোগ অনেক বেড়েছে, তবে প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত ঘাটতিগুলো দূর করতে আরও নিবিড় কাজের প্রয়োজন। পরিশেষে উত্তর-পূর্ব ভারতের ফুটবলের প্রতি উন্মাদনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডুরান্ড কাপের ম্যাচগুলোতে স্টেডিয়াম জুড়ে দর্শকের যে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়, তা প্রমাণ করে এই অঞ্চলে ফুটবলের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল।
