আমেরিকার ‘চক্রব্যূহ’ ব্যর্থ, মোদীকে চাপে রাখা আসাম্ভব বলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হুঙ্কার পুতিনের, বাণিজ্য লক্ষ্য ১০০ বিলিয়ন ডলার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ব রাজনীতির দাবা খেলায় পশ্চিমী দেশগুলোর গোপন পরিকল্পনা ফাঁস করে এক নতুন কূটনৈতিক আলোড়ন তৈরি করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের এক বৈঠকে বিশ্বের তাবড় সংবাদ সংস্থার কর্তাদের সামনে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভারতের ওপর আমেরিকা ও তার সহযোগীদের ক্রমাগত চাপ সৃষ্টির কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে পুতিন জানান, ভারতের মতো স্বাধীনচেতা রাষ্ট্রকে কোনো বহিরাগত শক্তির পক্ষে চাপে ফেলা সম্ভব নয়।
পশ্চিমী চাপ ও ভারতের অনড় অবস্থান
ইউক্রেন সংঘাতের আবহে আমেরিকা ও পশ্চিমী দুনিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নয়াদিল্লির ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে ভারত রাশিয়ার থেকে দূরত্ব বজায় রাখে এবং বিশেষ করে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করে। এই বিষয়টিকে সরাসরি তুলে ধরে পুতিন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, দেড়শো কোটি ভারতীয়র স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেন এবং কোনো আন্তর্জাতিক শক্তির সামনে মাথা নত করেন না। ভূ-রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী এবং নির্ভরযোগ্য বন্ধুত্বে কোনো ফাটল ধরেনি। বরং ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা ও বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়েও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে জ্বালানি সুরক্ষার ক্ষেত্রে পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সব পরিস্থিতিতেই মস্কো ভারতকে তেল সরবরাহ বজায় রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বহুমেরু বিশ্বের বার্তা
আমেরিকার তৈরি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ‘চক্রব্যূহ’ ভেঙে দুই দেশ বাণিজ্য ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে চলেছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের ধারণা, ভারতের এই স্বাধীন অবস্থান এবং রাশিয়ার সঙ্গে মজবুত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ওয়াশিংটনের কৌশলগত পরিকল্পনাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনকে সামনে রেখে পুতিনের এই বিবৃতি এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত একদিকে যেমন আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গেও সমদূরত্বে তার বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত করছে। এই দ্বিমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে এবং একটি বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে।
