“আর সিটের প্রয়োজন নেই!” নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত গুটিয়ে এনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ সিবিআই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্য জুড়ে আলোড়ন ফেলা শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত এবার শেষপর্যায়ে। কলকাতা হাইকোর্টে সাম্প্রতিক তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত আপডেট দিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। বুধবার আদালতে সিবিআই-এর আইনজীবী জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত বেশিরভাগ মামলার মূল তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। তাই তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT)-এর আর আলাদা করে কোনও প্রয়োজন নেই।
সিবিআই হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছে, সিট ভেঙে দিয়ে বাকি সামান্য কাজটুকু যেন সিবিআই-এর সাধারণ দুর্নীতিদমন শাখার হাতেই সঁপে দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়োগ সংক্রান্ত চারটি প্রধান মামলার তদন্ত শেষে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। পাশাপাশি পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলারও তদন্ত গুটিয়ে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিটের অধীনে থাকা বাকি তিনটি মামলার ওপর বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে সিবিআই-এর যুক্তি—যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে চার্জশিট জমা পড়ে গেছে, তাই আলাদা করে সিট বহাল রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই। দুর্নীতিদমন শাখার নিয়মিত পরিকাঠামো দিয়েই বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতির ব্যাপ্তি দেখে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআই-কে একটি বিশেষ ‘সিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তারপর থেকে এই সিট-ই পুরো তদন্তের তদারকি করে আসছিল।
অন্য দিকে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পৃথকভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। গত মে মাসে এই মামলাতেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। এছাড়া সম্প্রতি মদন মিত্র এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ইডি আধিকারিকেরা।
সব মিলিয়ে, সিবিআই আদালতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নিয়োগ দুর্নীতির মূল ও বড় অংশের তদন্ত তারা সফলভাবেই গুটিয়ে এনেছে। এখন দেখার, সিবিআই-এর এই আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট ‘সিট’ ভেঙে দেওয়ার অনুমতি দেয় কি না।
