আসছে বিরাট ধাক্কা! কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবির মাঝেই জ্বালানি সংকট নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি উদয় কোটাকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ইতিবাচক দাবির মাঝেই ভারতের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অশনিসংকেত দিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি উদয় কোটাক। যখন সরকারিভাবে জ্বালানির মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, ঠিক তখনই একটি বড় ধরনের আর্থিক ও সরবরাহজনিত সংকটের (বিগ শক) আশঙ্কায় দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলে এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উৎপাদন নিয়ে কেন্দ্রের দাবি ও বর্তমান চিত্র
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সম্প্রতি দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে দেশে দৈনিক ৩৫ হাজার মেট্রিক টন প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদিত হতো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার মেট্রিক টনে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে ৬০ দিনের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে জ্বালানি সাশ্রয় ও সম্পদ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
শিল্পপতির সতর্কতা ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
সরকারি এই স্বস্তির বাণীর বিপরীতে ভিন্ন সুর শোনা গেছে শিল্পপতি উদয় কোটাকের গলায়। তাঁর মতে, ভারত এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে যা সাধারণ গ্রাহকরা এখনও সেভাবে টের পাননি। কোটাক সতর্ক করে জানিয়েছেন, গত দু’মাসে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে না এলেও সামনের দিনগুলো অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণ করা আসাম্ভব হয়ে পড়বে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি কেবল যাতায়াত বা রান্নার খরচে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে। নিম্নবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের ওপর এই মুদ্রাস্ফীতির বোঝা ‘বিরাট ধাক্কা’ হিসেবে আছড়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান কারো হাতে নেই বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই শীর্ষ শিল্পপতি।
