ইতালির ভাগ্য কি খুলবে? ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কী জানালেন ফিফা প্রেসিডেন্ট!

ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: ফিফা প্রেসিডেন্টের আশাবাদ ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা ফুটবল বিশ্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশটির বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ফুটবল বনাম ভূ-রাজনীতি: ফিফার অবস্থান
বুধবার এক ইভেন্টে সরাসরি এই বিষয়ে কথা বলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। ফিফা প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে উত্তপ্ত সম্পর্কের জেরে দেশটির ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। ইনফান্তিনোর মতে, ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে মাঠের ফুটবলের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
ফুটবলার ও দেশের প্রতিনিধিত্ব
ইনফান্তিনো মনে করেন, ফুটবলাররা কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন না, বরং তারা পুরো একটি জাতির প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘ইরান নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপে অংশ নেবে। আমরা আশা করছি, বিশ্বকাপের সময় পরিস্থিতি অনেকটাই শান্তিপূর্ণ থাকবে।’ তার মতে, ফুটবল খেলার মধ্যে দিয়ে দেশগুলোর মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এ কারণেই কোয়ালিফাই করার পর কোনো দলকে এই মঞ্চ থেকে বঞ্চিত করা সমীচীন নয় বলেও মনে করেন তিনি।
শান্তির আশায় ফুটবল
ফিফা ঐতিহাসিকভাবেই স্পোর্টস পলিটিক্স থেকে বেরিয়ে ফুটবলের সর্বজনীনতাকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। ইরানের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপের আয়োজন একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। খেলাধুলা যে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ দেশটির খেলোয়াড়দের জন্য যেমন বড় সুযোগ, তেমনি তা ফুটবল বিশ্বকেও একটি বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ফিফা প্রেসিডেন্টের মন্তব্য: জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে।
- ভূ-রাজনৈতিক সংকট: আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও ফুটবলারদের মাঠে ফেরাতে আগ্রহী ফিফা।
- মূল উদ্দেশ্য: খেলাধুলাকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে দূরে রাখা এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের মাধ্যমে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
- খেলোয়াড়দের প্রাপ্তি: বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না কোনো ফুটবলারই, কারণ তারা গোটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা: বিশ্বকাপের সময় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং ফুটবল খেলার মাধ্যমে কার্যকর পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ফিফা প্রধান।
