ইরানের ‘ট্রাম্প কার্ডেই’ কি থমকে যাচ্ছে আমেরিকার যুদ্ধের হুমকি! – এবেলা

ইরানের ‘ট্রাম্প কার্ডেই’ কি থমকে যাচ্ছে আমেরিকার যুদ্ধের হুমকি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি টিকে থাকলেও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে চরম উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে লক্ষ্য করে পুনরায় যুদ্ধের হুমকি দিলেও পর্দার আড়ালে এক গভীর শঙ্কা গ্রাস করছে ওয়াশিংটনকে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগাতার হুমকি সত্ত্বেও মার্কিন প্রশাসনের স্বস্তিতে না থাকার মূল কারণ ইরানের হাতে থাকা একটি বিশেষ ‘ট্রাম্প কার্ড’, যা খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছে।

ইউরেনিয়ামের মজুত ও পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা

ইরানের হাতে থাকা এই ‘ট্রাম্প কার্ড’ আসলে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার। দীর্ঘ বছর ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ইউরেনিয়াম মজুত করে আসছে তেহরান। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের মজুত ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছিল ওয়াশিংটন। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বিভিন্ন মাত্রায় সমৃদ্ধ হাজার হাজার কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। হামলার পরও যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম অক্ষত রয়েছে, তা দিয়েই পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম তেহরান। আর এই অবশিষ্ট পারমাণবিক ক্ষমতাই এখন আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শর্তের বেড়াজালে আটকে শান্তিচুক্তি

দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা বা শান্তিচুক্তি না হওয়ার পেছনে কাজ করছে আমেরিকার দেওয়া কঠোর কিছু শর্ত। যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন মূলত তিনটি প্রধান শর্ত দিয়েছিল। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অবাধ অনুমতি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, তেহরানের কাছে থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের পথ থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

ইরান কোনোভাবেই আমেরিকার এই শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি নয়। বিশেষ করে নিজের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত শক্তি বিসর্জন দিয়ে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে সম্পূর্ণ নারাজ তেহরান। ফলে দুই দেশের সমঝোতা প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেমন নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তেমনি বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষাব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে ইরানের এই অনড় মনোভাবই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের যুদ্ধের হুমকিকে কেবলই মনস্তাত্ত্বিক চাপে সীমাবদ্ধ রাখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *