উত্তরবঙ্গ থেকে ধৃত ৩ সন্দেহভাজন পাক-চর: ‘স্বামী কী করতেন কিছুই জানি না’, বিস্ফোরক দাবি স্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি সপ্তাহেই বেঙ্গল এসটিএফ-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল পাক-চর রানা রউফ। তার জের কাটতে না কাটতেই স্বাধীনতা দিবসের দিন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আরও তিন পাক-চরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ ও তদন্তকারী দল। ধৃতদের পরিচয় জানা গিয়েছে— সফিকুল ইসলাম, রশিদুল হক এবং নুর নাসিরুদ্দিন আলি।
ঘটনার তদন্তে নেমে সফিকুলের বিষয়ে উঠে এসেছে অত্যন্ত চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের পাঞ্জিপাড়ার দেওনা গ্রামের বাসিন্দা সখিনা বিবির সঙ্গে বিয়ে হয় সফিকুলের। তবে বিয়ের পর থেকে সখিনা তাঁর বাপের বাড়িতেই থাকতেন। সফিকুল মাঝে মধ্যে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেত। সখিনা জানান, স্বামী আসলে কোথায় থাকতেন বা তাঁর আসল পেশা কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
এমনকি গত ২ বছর ধরে সফিকুল বাড়িও ফেরেনি, কেবল ফোনে যোগাযোগ রাখত। সখিনা নিজের এক সন্তানকে নিয়ে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ যখন সফিকুলকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়, তখন তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখে অবাক হয়ে যান সখিনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দেওনা গ্রামে বসেই নিজের অপরাধের জাল বুনত সফিকুল। কাছেই বিএসএফ-এর একটি ক্যাম্প থাকায়, শ্বশুরবাড়ির এলাকাটিকে সে নিজের নিরাপদ গোপন আস্তানা বা ডেরা হিসেবে ব্যবহার করত বলে প্রাথমিক অনুমান। প্রতিবেশীদেরও দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল যে সফিকুল ওই এলাকার বা ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা নয়।
১২ বছরের বিবাহিত জীবনে স্বামীর শ্বশুরবাড়ি কোথায় বা সে ঠিক কী কাজ করত— কিছুই না জানার কথা স্বীকার করেছেন সখিনা। বর্তমানে ধৃত সফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মূল শিকড় খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
