এআইয়ের দাপটে বিপন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকার, এবার আইনি সুরক্ষার খোঁজে দিল্লি হাই কোর্টে বরুণ ধাওয়ান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সিনেমা, টেলিভিশন কিংবা বিজ্ঞাপনের গণ্ডি পেরিয়ে রুপোলি পর্দার তারকারা এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়। প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উন্নতি যেমন তারকাদের ভক্তদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, তেমনই তৈরি করেছে এক নতুন সংকট। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির অপব্যবহার বিনোদন জগতের তারকাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ঐশ্বর্য রাই বচ্চন, সালমান খান, বিবেক ওবেরয় কিংবা আল্লু অর্জুনের পর এবার এই সাইবার হেনস্থার শিকার হলেন বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। নিজের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার্থে এবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
অনুমতিহীন ব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট
বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইটে বরুণ ধাওয়ানের অনুমতি ছাড়াই তাঁর নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অভিনেতার দাবি, ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর ছবি বিকৃত করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও এবং আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এই ধরনের ভুয়ো বিজ্ঞাপনী প্রচার ও বিভ্রান্তিকর লিঙ্কের কারণে নিজের সামাজিক সম্মান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি জ্যোতি সিংহের একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়, যেখানে আদালত অভিনেতাকে অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আদালতের কড়া অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
ডিজিটাল দুনিয়ায় সেলিব্রিটিদের সত্ত্বাধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। আদালত ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া সহ সমস্ত ডিজিটাল মাধ্যমকে নির্দেশ দিয়েছে যেন অভিনেতার সম্পর্কিত সমস্ত আপত্তিকর ও অনুমতিহীন কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হয়। একই সাথে, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ভুয়ো কনটেন্ট আর না ছড়াতে পারে, সেই বিষয়েও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে যেভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সহজেই কারও পরিচয় নকল করা হচ্ছে, তাতে এই ধরনের আইনি সুরক্ষাকবচ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বরুণের এই আইনি পদক্ষেপ আগামী দিনে ডিজিটাল মাধ্যমে তারকাদের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সাইবার অপরাধীদের লাগাম টানতে সাহায্য করবে।
