একটাই জিলিপির দোকান, তাও কিনতে হয় নিলামে! কোন গ্রামের মেলায় এমন অদ্ভুত নিয়ম? – এবেলা

একটাই জিলিপির দোকান, তাও কিনতে হয় নিলামে! কোন গ্রামের মেলায় এমন অদ্ভুত নিয়ম? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ঝাড়গ্রামের বিনপুর থানার হাড়দা গ্রামে লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে প্রতি বছর আয়োজিত হয় এক ব্যতিক্রমী মেলা, যার মূল আকর্ষণ শুধুই জিলিপি। এখানে মেলাজুড়ে নানা আয়োজন থাকলেও জিলিপির দোকান বসে মাত্র একটি। তাও আবার যে কেউ চাইলেই এই দোকান দিতে পারেন না; সাহা ও মণ্ডল পরিবারের সদস্যদের নিলামে অংশ নিয়ে দোকানের বরাত নিতে হয়। চলতি বছরে ৩ লক্ষ ৯১ হাজার টাকায় জিলিপির দোকানের স্বত্ব পেয়েছেন সিন্টু সাহা। মেলা উপলক্ষে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কুইন্টালেরও বেশি জিলিপি বিক্রি হয়। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারা নন, পার্শ্ববর্তী জেলা এমনকি ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকেও বহু মানুষ এই বিশেষ জিলিপির স্বাদের টানে মেলায় ভিড় জমান।

এই জিলিপির বিশেষত্ব হলো এর প্রস্তুতপ্রণালী এবং স্থায়িত্ব। সাধারণ ময়দার বদলে বিরি ও বিউলি ডালের গুঁড়ির সঙ্গে আতপ চালের গুঁড়ি মিশিয়ে তৈরি এই জিলিপি নাকি টানা এক মাস ঘরে রেখে খেলেও নষ্ট হয় না। বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দোকানদার নিজের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারেন না। জিলিপির দাম ঠিক করে পুজো কমিটি। এ বছর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে কেজি প্রতি ১০ টাকা দাম বেড়ে প্রতি কেজির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১১০ টাকা। প্রায় ১৫ দিন ধরে চলা এই দীর্ঘ উৎসবে ভোগ হিসেবে নিবেদন না করা হলেও জিলিপিই হয়ে উঠেছে এই ঐতিহ্যবাহী মেলার প্রধান আকর্ষণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *