ওর সাথে হালালা করুন! বিবাহবিচ্ছিন্না নারীকে জোর করে হালালার ফতোয়া দিয়ে পৈশাচিক উল্লাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর প্রদেশের বেরেলি জেলায় এক অসহায় নারীর ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও অবিচারের অভিযোগ উঠেছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর ওই নারী যখন নিয়ম মেনে ‘ইদ্দত’ বা অপেক্ষার সময় অতিবাহিত করছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর কোনো বক্তব্য না শুনেই স্থানীয় একটি পঞ্চায়েত তাঁকে ‘নিকাহ হালালা’ করার নির্দেশ দেয়। ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে ওই নারীর ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও মর্যাদা কার্যত ধূলিসাৎ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই ঘটনার মাধ্যমে।
জোরপূর্বক ধর্মান্তরের হুমকি ও লাঞ্ছনা
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পঞ্চায়েতের এই অন্যায্য নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। উপস্থিত জনতা তাঁকে জোর করে এই কাজে বাধ্য করার চেষ্টা চালায় এবং প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি নির্দেশ অমান্য করলে তাঁকে সমাজচ্যুত করার এবং ইসলাম থেকে বহিষ্কার করার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে কোনোমতে নিজেকে বাঁচিয়ে ওই নারী বেরেলি এসএসপি দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ জানান।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এসএসপি অনুরাগ আর্যের নির্দেশে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযুক্ত মৌলানা ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একাধিক মুসলিম ধর্মীয় নেতা স্পষ্ট করেছেন যে, শরিয়ত অনুযায়ী হালালার বিষয়টি থাকলেও কোনো নারীকে তাঁর অমতে বা বলপ্রয়োগ করে এতে বাধ্য করা চরম অপরাধ। এই ধরণের অমানবিক আচরণকে তাঁরা সামাজিক ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই দণ্ডনীয় বলে চিহ্নিত করেছেন।
এক ঝলকে
- বিবাহবিচ্ছেদের পর বেরেলির এক নারীকে জোরপূর্বক হালালা করার ফতোয়া দিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত।
- নিগৃহীতা নারী রাজি না হওয়ায় তাঁকে সমাজচ্যুত ও ইসলাম থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়।
- প্রাণভয়ে ওই নারী পুলিশের দ্বারস্থ হলে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
- ধর্মীয় নেতাদের একাংশ এই ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ ও শরিয়ত বিরোধী কাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
