করোনাতেও লক্ষ্মীলাভ! চাইনিজ রেস্তোরাঁর আড়ালে কোটি কোটি টাকা? সুজিতের ১০ দিনের হেফাজত চাইল ইডি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তাঁকে পেশ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দাবি করেছে, গত সাত বছরে সুজিত ও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন রেস্তোরাঁগুলোতে প্রায় ৮ কোটি টাকার সংগৃহীত কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছাতে সুজিত বসুকে ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
করোনাকালে অস্বাভাবিক লেনদেন ও ফ্ল্যাট বাণিজ্য
তদন্তকারীদের দাবি, যখন করোনাকালে সারা বিশ্বের ব্যবসা বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল, সেই কঠিন সময়েও সুজিত বসুর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ২ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। ইডির সন্দেহ, নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ এই ব্যবসার আড়ালে ঘুরিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় চাকরির বিনিময়ে কেবল নগদ টাকাই নয়, ফ্ল্যাট এবং শেয়ার বাজারে অর্থ খাটানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। অয়ন শীলকে জেরা করে ইডি জানতে পেরেছে যে, অন্তত ১৫০ জন প্রার্থী সুজিত বসুর সুপারিশে চাকরি পেয়েছিলেন।
সন্তানদের অ্যাকাউন্টে রহস্যময় অর্থপ্রবাহ
এই মামলার তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে তারাতলা ও লেকটাউনের ব্যবসায়ী বিবেক ঢনঢনিয়ার সূত্র ধরে। ইডির দাবি, ওই ব্যবসায়ীর সংস্থা থেকে সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্র বসু এবং তাঁর মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়ত। একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে মন্ত্রীর সন্তানদের এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের কোনো সন্তোষজনক কারণ খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় সম্পত্তির উৎস নিয়ে সুজিত বসুর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত এবং আসল সুবিধাভোগী কারা, তা উদঘাটন করতে মন্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা প্রয়োজন। আপাতত আদালতের নির্দেশের দিকেই নজর রয়েছে সব মহলের।
