কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গ দখল, ম্যাজিক ফিগার ছাপিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বিজেপি

কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গ দখল, ম্যাজিক ফিগার ছাপিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বিজেপি

অঙ্গ ও কলিঙ্গ জয়ের পর এবার বাংলাতেও গেরুয়া ঝড়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পাওয়া নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ট্রেন্ড অনুযায়ী, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবান্ন দখলের পথে পদ্ম শিবির। ওড়িশা ও আসামের পর পশ্চিমবঙ্গ জয়ের মাধ্যমে পূর্ব ভারতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যপূরণ করতে চলেছে মোদী-শাহ জুটি।

রেকর্ড আসন ও ভোটের ব্যবধান

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১৪৭-এর ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই পার করে গেছে বিজেপি। সবশেষ খবর অনুযায়ী, ১৮৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তারা, যা ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে ৪০টি বেশি। অন্যদিকে, বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ১০১টি আসনে এগিয়ে থেকে লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। বাম জোট ও হুমায়ুন কবীরের এজেইউপি (AJUP) ২টি করে আসনে এবং বিজিপিএম ১টি আসনে এগিয়ে থাকলেও কংগ্রেস এখন পর্যন্ত খাতা খুলতে পারেনি। তবে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বামেদের ঝুলিতে ফিরতে পারে ডোমকল আসনটি।

পরিবর্তনের কারিগর ও ভোটের সমীকরণ

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৪.৭৪ শতাংশ এবং তৃণমূলের ৪১.৫২ শতাংশ। শতাংশের হিসেবে দুই শিবিরের ব্যবধান কম হলেও আসনের নিরিখে তৃণমূলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং বিজেপির সুসংগঠিত প্রচারই এই অভাবনীয় সাফল্যের প্রধান কারণ। এমনকি খাস ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছিয়ে থাকা এবং শুভেন্দু অধিকারীর লিড রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তৃণমূলের অভিযোগ ও আগামীর প্রভাব

ফলাফলের প্রাথমিক ঝোঁক স্পষ্ট হতেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, প্রায় ১০০টি জায়গায় গণনা বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। যদিও এই হারকে স্রেফ প্রাথমিক ট্রেন্ড বলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তৃণমূলের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই জয়ের ফলে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *