কাটমানি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ, বাগনানে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির সামনে ঝাঁটা হাতে মহিলাদের তুমুল বিক্ষোভ – এবেলা

কাটমানি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ, বাগনানে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির সামনে ঝাঁটা হাতে মহিলাদের তুমুল বিক্ষোভ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হাওড়ার বাগনানে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হলো তৃণমূল বিধায়ক অরুণাভ সেনের বাড়ির সামনে। সরকারি আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ঝাঁটা ও জুতো হাতে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় শতাধিক মহিলা। শুক্রবার দুপুরের এই আকস্মিক ঘটনার জেরে বাগনান-শ্যামপুর রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে নামতে হয়েছে।

বিক্ষোভের নেপথ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ

বাগনান এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজাপাড়া ও রথতলা এলাকার বাসিন্দারা এদিন দুপুরে খালোড় গোপীমোহন স্কুলের পেছনে বিধায়কের বাড়ির সামনে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে এলাকায় একচ্ছত্র অন্যায় ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বিধায়ক। সরকারি নানা প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিধায়কের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে বা তাঁর পছন্দের লোক না হলেই সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে ক্ষুব্ধ মহিলারা বিধায়কের ছবিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং জুতো-ঝাঁটা মেরে ক্ষোভ উগরে দেন।

প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে চলা এই বিক্ষোভের জেরে চিত্রবাণী সিনেমা হল সংলগ্ন রাস্তাটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ এসে বিধায়কের বাড়ির সামনে ব্যারিকেড তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং বিক্ষোভকারীদের থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, কারণ সরকারি আবাস যোজনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ শাসক দলকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলছে। এই বিক্ষোভের ফলে এলাকায় তৃণমূলের ভাবমূর্তি যেমন ধাক্কা খেল, তেমনই জনমানসে ক্ষোভের গভীরতাও স্পষ্ট হলো। অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিধায়ক অরুণাভ সেন জানান যে মানুষের বাক স্বাধীনতা রয়েছে। কাটমানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, তদন্তকারী সংস্থা চাইলে ঘটনার তদন্ত করে দেখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *