গরম থেকে বাঁচতে পাহাড়ে ঢল, টয়ট্রেনের আয়ে নয়া রেকর্ড! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সমতলের ভ্যাপসা গরম আর অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য এখন পাহাড়। পর্যটকদের এই প্রবল ঢলে দার্জিলিংয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ টয়ট্রেনের টিকিটের চাহিদা এক ধাক্কায় তুঙ্গে পৌঁছেছে। টিকিটের এই চাহিদা এতটাই বেশি যে, গত পাঁচ বছরের রেকর্ড ভেঙে চলতি বছরের মে মাসে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে পাহাড়ে ১৩টি টয়ট্রেন চালু থাকলেও টিকিটের আকালে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটককে বাধ্য হয়ে ওয়েটিং লিস্টে থাকতে হচ্ছে।
আয়ের খতিয়ান ও পাহাড়মুখী হওয়ার কারণ
চলতি বছর মে মাসে টয়ট্রেনের জয় রাইড থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় হয়েছে ৩৯৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের মে মাসে আয় ছিল ৩১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা, যা ২০২৩ ও ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩৫৮ লক্ষ ১৮ হাজার ও ৩৫৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায়। সমতলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তিকর গরমের হাত থেকে বাঁচতেই পর্যটকরা দলে দলে শৈলশহরে ভিড় জমাচ্ছেন। আর এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগমের ফলেই দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটারের জয় রাইডে টিকিট পাওয়াই এখন রীতিমতো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ৯টি ডিজেল এবং ৪টি ঐতিহ্যবাহী বাষ্পচালিত ইঞ্জিন দিয়ে পরিষেবা দেওয়া হলেও প্রতিটি ট্রেনই পর্যটকে ঠাসা থাকছে।
সামাল দিতে রেলের বিশেষ উদ্যোগ
টয়ট্রেনের এই আকাশছোঁয়া চাহিদার কারণে জুন মাসেও আয় ৩৭০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে আরও একটি নতুন রেকর্ড গড়বে বলে আশা করছেন ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ। বেড়াতে এসে হেরিটেজ টয়ট্রেনে ওঠার সুযোগ না পেয়ে বহু পর্যটককে হতাশ হতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলের তরফে পর্যটকদের আগে থেকে টিকিট বুকিং করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, টিকিটের এই বিপুল চাহিদা মেটাতে এবং পর্যটকদের বাড়তি পরিষেবা দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে রাত্রিকালীন জয়রাইড শুরু করা হয়েছে এবং ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত ‘স্পেশাল সার্ভিস’ বা বিশেষ টয়ট্রেন চালানোর বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
