গরিবের পেটে লাথি মেরে রেশন কার্ড বন্ধক, মহাজনদের চাল-গম লুটের চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি কোটশিলায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অভাবের চরম তাড়নায় পড়ে শেষ সম্বল সরকারি রেশন কার্ডটুকুও বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছেন প্রান্তিক মানুষ। আর সেই সুযোগে বছরের পর বছর ধরে গরিবের জন্য বরাদ্দ গণবণ্টন ব্যবস্থার চাল, গম ও চিনি লুটে নিয়েছে একদল প্রভাবশালী মহাজন। পুরুলিয়ার ঝালদা দু’নম্বর ব্লকের কোটশিলার উকমা গ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই বিরাট রেশন কেলেঙ্কারির ঘটনাটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই দুর্নীতির খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতিমিধ্যেই ঝালদা থানার পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী প্রান্তিক মানুষদের সাথে কথা বলে মহাজনদের কব্জা থেকে বিপুল সংখ্যক রেশন কার্ড উদ্ধার করেছে।
ঋণের জালে বন্দি প্রান্তিক পরিবার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উকমা গ্রামের অত্যন্ত দরিদ্র ও তফসিলি জাতিভুক্ত কালিন্দী পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার রেশন কার্ড মহাজনদের কাছে বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। হস্তশিল্পের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালানো এই পরিবারগুলো চরম আর্থিক অনটনে পড়ে স্বামীর চিকিৎসা কিংবা দু’বেলা অন্নের সংস্থানে মহাজনদের কাছ থেকে মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু চড়া সুদের হার এবং মূল অর্থ ফেরত দিতে না পারায়, মহাজনদের লাগাতার চোখরাঙানির মুখে তারা ৫ থেকে ৭ বছর ধরে নিজেদের রেশন কার্ড হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। অভিযুক্ত স্থানীয় মহাজন সুষেন মাহাতো, মুরুলি মাহাতো ও চন্ডী মাহাতোদের বিরুদ্ধে এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে অন্যের কার্ডে দিনের পর দিন সরকারি রেশন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, তারা জোর করে কার্ড নেননি, গ্রাহকরাই দিয়ে গেছেন; তবে অন্যের কার্ডের পণ্য কেন তারা তুলছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ও প্রভাব
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেশন কার্ড একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথি, যা কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। কিন্তু এত বছর ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে অন্যের কার্ড দেখিয়ে গণবণ্টন ব্যবস্থার সামগ্রী দেদার লোপাট হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই কেলেঙ্কারির ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি খাদ্যসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা গ্রামীণ খাদ্য সুরক্ষাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। ঝালদা দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপককুমার সিংহ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ কার্ডগুলো উদ্ধার করায় আপাতত গরিব পরিবারগুলো স্বস্তি পেলেও, এই চক্রের পেছনে রেশন ডিলার বা অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
