গোর্খা ইস্যুতে মমতাকে কড়া বার্তা অমিত শাহের, পাহাড়ের রাজনীতিতে বড় চমক!

দার্জিলিংয়ের গোর্খা ইস্যু: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলে বড় সংঘাতের বার্তা অমিত শাহের
দার্জিলিংয়ের গোর্খা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং তাদের ওপর প্রশাসনিক আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। এই ইস্যুতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং অসহযোগিতাকে কেন্দ্র করে তিনি যে সুর চড়িয়েছেন, তা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গোর্খা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ
অমিত শাহের দাবি, গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বারবার উদ্যোগী হলেও রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী, গত দেড়ি বছরে তিনি নিজে দিল্লিতে গোর্খাদের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে তিনটি আলাদা বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত হতাশাজনক বিষয় হলো, প্রতিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা রাজ্য প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি ওই বৈঠকে গরহাজির ছিলেন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার বর্তমানে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন।
পাহাড়ের রাজনীতিতে পুলিশি হেনস্তার প্রভাব
পাহাড়ের সাধারণ মানুষের আবেগ ও ক্ষোভকে পুঁজি করে অমিত শাহ নির্বাচনী ময়দানে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছেন শাসকদলকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দার্জিলিংয়ের গোর্খাদের ওপর ঢালাওভাবে মিথ্যে পুলিশি মামলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধুমাত্র একটি অভিযোগ নয়, বরং পাহাড়ের জনমানসে জমে থাকা প্রশাসনিক চাপের বিরুদ্ধে এক ধরনের উস্কানি। শাহের এই আক্রমণের কৌশল গোর্খা ভোটারদের মধ্যে প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
বিজেপির সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির রাজনীতি
গোর্খাদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে বিজেপি বড় ধরনের প্রতিশ্রুতির রাস্তায় হেঁটেছে। অমিত শাহ জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি সরকার গোর্খাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক রদবদল করবে।
- দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতর থেকেই গোর্খাদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
- আইনি জটিলতা দূর করে গোর্খা জনগোষ্ঠীর দাবিগুলোর প্রতি কেন্দ্র সরকার দায়বদ্ধ থাকবে।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাহাড়ের জটিল সমীকরণে শাহের এই প্রতিশ্রুতি সরাসরি জনমোহিনী রাজনীতির ইঙ্গিত। ইস্যুটিকে তিনি যেভাবে জাতীয় রাজনীতির মূল কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জন্য পাহাড়ের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। গোর্খা ভোটাররা এই তর্জা এবং প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব কীভাবে উপলব্ধি করবেন, তা জানতে এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের ফলের জন্য।
এক ঝলকে
- গোর্খা ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
- গোর্খাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে পুলিশি মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে পাহাড়ের ক্ষোভকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
- গত দেড় বছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ডাকা তিনটি কেন্দ্রীয় বৈঠকে রাজ্যের প্রতিনিধিরা যোগ দেননি বলে অভিযোগ।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
