ঘরছাড়াদের ‘জরিমানা’ ফেরত! নানুরে কাজল-অনুগামীদের ‘কীর্তি’তে শোরগোল – এবেলা

ঘরছাড়াদের ‘জরিমানা’ ফেরত! নানুরে কাজল-অনুগামীদের ‘কীর্তি’তে শোরগোল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শান্তিনিকেতন সংলগ্ন নানুর ও কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত এলাকায় এক নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিগত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের পর ঘরছাড়া হওয়া বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফেরার জন্য যে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছিল, তা এখন ফেরত দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এই অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি বদলাতেই আচমকা এই টাকা ফেরতের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।

ঘরে ফেরার চড়া মাসুল ও ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার জেরে নানুরের বহু বিজেপি কর্মী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে গ্রামে ফিরে আসার শর্ত হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। শান্তিনিকেতন থানা এলাকার অন্তর্গত কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত ও সংলগ্ন অঞ্চলের অন্তত ১১ জন বিজেপি কর্মী সম্প্রতি সেই আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত পেয়েছেন।

ভুক্তভোগী বিজেপি কর্মীদের দাবি, ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও পরিবারের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া থাকার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধ্য হয়েই তাঁরা এই বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে দিয়েছিলেন শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের হাতে। এমনকি, এই জরিমানার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কোনো কোনো কর্মীকে নিজেদের মাথা গোঁজার ভিটেমাটি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে।

দায় এড়ালেন কাজল, নীরব অভিযুক্তরা

এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় নাম জড়িয়েছে স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতা মামন শেখ ও আলেফ শেখের। এলাকায় তাঁরা বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাসন বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনা প্রসঙ্গে কাজল শেখ সম্পূর্ণ দায় এড়িয়ে জানিয়েছেন, ২০২১ সালের সময় ওই অঞ্চলের সাংগঠনিক কোনো দায়িত্ব তাঁর ওপর ছিল না। কঙ্কালীতলা এলাকায় যদি এমন কোনো জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত দুই তৃণমূল নেতা এই অর্থ ফেরতের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণ ও ক্ষমতার হাতবদলের কারণেই অভিযুক্তরা আইনি জটিলতা বা গণরোষ এড়াতে তড়িঘড়ি এই টাকা ফেরত দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় তৃণমূলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ভোট-পরবর্তী আর্থিক শোষণের চিত্রটি আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *