চল্লিশ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টির পূর্বাভাস, পুড়তে থাকা বাংলায় কি অবশেষে ফিরবে স্বস্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা দক্ষিণবঙ্গের জন্য অবশেষে সুখবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গত কয়েকদিন ধরে চলা প্রাণান্তকর তাপপ্রবাহের পর বায়ুমণ্ডলে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পরপর দুটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দেশজুড়ে দুর্যোগের মেঘ ঘনিয়ে আসতে পারে, যার জেরে বাংলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণ
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অত্যধিক গরমের ফলে স্থলভাগে নিম্নচাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এই আর্দ্র বায়ু যখনই শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সংস্পর্শে আসবে, তখনই তৈরি হবে বজ্রগর্ভ মেঘ। এর প্রভাবে বিকেলের পর শক্তিশালী বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় আছড়ে পড়তে পারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়।
প্রশাসন ও সাধারণের জন্য সতর্কতা
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৯ এবং ৩০ এপ্রিল বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার হতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ওড়িশা, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গেও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এই বৃষ্টি কৃষিকাজের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। তবে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। গ্রীষ্মের দাপট কাটিয়ে প্রকৃতি কতটা শান্ত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
এক ঝলকে
- পরপর দুটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল বঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা।
- ঝড়ের সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে।
- নিম্নচাপ ও জলীয় বাষ্পের জেরে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় হলুদ সতর্কতা জারি।
- বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
